স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। ধাওয়া করলে তারা দুর্গম এলাকা পার হয়ে ভারতের দিকে চলে যায়। সে জন্য বিওপির সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তারা যতটুকু পারছে সহযোগিতা করছে, আমরাও সেটাই করছি। গতকাল বুধবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে ভারতের মিজোরামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানার তালিকা দিয়ে অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতও তালিকা দিয়েছে। তবে তাদের তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে কিছুই পায়নি বিজিবি।
২০২০ সালে বিজিবি সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক প্রদান উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরের মাল্টিপারপাস সেডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন বিজিবি ডিজি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিজিবির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক ও বেসামরিক কর্মচারীরা।
বীরত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ চার ক্যাটাগরিতে বিজিবির ৫৯ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ১৯ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা (পিজিবিএমএস) দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলে থাকেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেব না এবং আমরা সেটাই করছি। তারাও (বিএসএফ) আমাদের এভাবে সহযোগিতা করছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের যে সীমান্ত রয়েছে, সেখানেও কিছু এলাকা সম্পর্কে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। ওই সব এলাকা থেকে সীমান্ত পার হয়ে দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ করে চলে যায়। আবার ওখানে অপরাধ করে আমাদের এখানে এসে আশ্রয় নেয়। এসব বন্ধের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিজিবিকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছি। এ ছাড়া সীমান্ত সড়ক নির্মাণে জোর দিয়েছি। সড়ক হয়ে গেলে এসব সমস্যা আর হবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘থার্টি ফার্স্ট নিয়ে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’
২৫ ডিসেম্বর ভারতের গৌহাটিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন হয়। সম্মেলন শেষে বিজিবির পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বিজিবি ডিজি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে প্রকাশ করেন এবং আস্তানাগুলো ধ্বংসের অনুরোধ জানান। গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি, সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে।’
এ প্রসঙ্গে বিজিবি ডিজি বলেন, ‘সম্মেলনে সন্ত্রাসী ঘাঁটির বিষয়টি উঠে এসেছে। যেখানে যেখানে ঘাঁটি আছে, সেখানে অভিযান চালানোর জন্য আমরা ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছি। তারা বলেছে, অভিযান চালিয়ে আমাদের জানাবে।’
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতে বিজিবি ডিজি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায়, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বিজিবি আজ ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই বাহিনীতে আভিযানিক ক্ষেত্রে সংযোজিত হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার, যুগোপযোগী ও কার্যকরী ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকেল, অল টেরেইন ভেহিকেল, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হাইস্পিড বোট, ইন্টারসেপ্টর ও ইউটিলিটি বোটসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি। এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে প্রায় ৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেমের’ আওতায় আনা হয়েছে। ২০২০ সালে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদকপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি।
স্বাধীনতা ও বিজয়ের প্রতীক নৌকা : গতকাল দুপুরে ভার্চুয়ালি কুমিল্লা পুলিশ লাইনস মাঠে নির্মিত বঙ্গবন্ধু নৌকা মঞ্চ তরণীর উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও বিজয়ের প্রতীক নৌকা। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে দলের প্রতীক হিসেবে নৌকা প্রতীক নির্বাচন করেন। এই নৌকা আমাদের চেতনারও প্রতীক।’
১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের ‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ তরণী’ নির্মাণের জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপার ও সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় কুমিল্লা জেলা পুলিশের বেশ কয়েকটি স্থাপনার উদ্বোধন করেন তিনি।