জাল ও ভুয়া নথি দিয়ে জামিন: পেশকারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন জেলা নাজির

জয়পুরহাটে মাদক মামলার নথি জালিয়াতি করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার অপরাধে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির শামশুল হুদা জয়পুরহাট থানায় এ মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, ওই মাদক মামলার জামিন পাওয়া আসামি আয়নাল হোসেন রানা (২৯), আইনজীবী সহকারী আমিনুল ইসলাম (৩৫), চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মোজাহেদুল ইসলাম (৪০)।

জামিনপ্রাপ্ত আসামি আয়নাল হোসেন রানার হাইকোর্টের আদেশে জামিন বাতিল করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও বলা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলার পাঁচবিবি থানার পুলিশ বালিঘাটার বটতলী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় মহাজের কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে আয়নাল হোসেন রানাকে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। সেই সময় আটক আয়নালের ভাই হজরত আলী পালিয়ে যায়। আয়নালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২ জনকে আসামি করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আদালতে আয়নালের জামিন আবেদন করলে জামিন না পাওয়ায় ওই মামলার নকল কপির জন্য আবেদন করে।

২০১৮সালের ৫ নভেম্বরে আইনজীবীর সহকারী আমিনুল ইসলাম নকল কপি স্বাক্ষর করে গ্রহণ করে। নকল গ্রহণের পর উপরিউক্ত তিন আসামি যোগসাজশে ৩০০ পিচ ইয়াবার ওই নকল কপির নথিতে জাল-জালিয়াতি করে ৩০ পিচ ইয়াবার নথি তৈরি করে হাইকোর্ট থেকে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বরে আয়নাল জামিনের আদেশ পায়।

পরে ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বরে জয়পুরহাট কারাগার থেকে আয়নাল মুক্তি পায়। জামিনপ্রাপ্ত আসামির ভাই ২ নম্বর আসামি হজরত আলী  হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে ইয়াবার পরিমাণ ৩০০ পিচ হওয়ায় আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন।

একই মামলার মূল আসামি আয়নালের জামিন হয়েছে বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আসলে মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩০০পিচ ইয়াবার পরিবর্তে ৩০পিচ ইয়াবার জাল ও ভুয়া নথি তৈরি করে আয়নালের জামিনটি নেওয়া হয়।

জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর হাইকোর্ট বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই আদালতের নির্দেশে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির শামশুল হুদা জয়পুরহাট থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। জাল, জালিয়াতি ও ভুয়া নথি তৈরি করে জামিন নেওয়ায় বর্তমানে জয়পুরহাটের আদালতসহ সর্বমহলে নানা গুঞ্জন চলছে।

জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির শামশুল হুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালতের নির্দেশে জয়পুরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছি এবং মামলার মূল এজাহার কপি, জব্দ তালিকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারের নিকট দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

জয়পুরহাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে হাইকোর্টের কাগজপত্রসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত চলছে, তদন্তানুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল (পিপি) তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া দরকার। এটা দেখে কেউ যেন এমন জাল-জালিয়াতি না করে।