জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কর্ম-অধিবেশন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবারও নীরব ভারত, মিয়ানমারের পক্ষে চীন

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এবারও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি ভারত। এই ইস্যুতে ভারত ও জাপানসহ ২৫টি দেশ ‘অ্যাবস্টেইন’ (ভোটদানে বিরত) থেকেছে। তবে আলোচিত এ ইস্যুতে আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৯টি দেশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্ম-অধিবেশনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোটাভুটি হয়। প্রস্তাবটি ১৩০-৯ ভোটে গৃহীত হয়েছে। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেইজ এবং আনান কমিশনের এক সদস্যের টুইট থেকেও একই তথ্য পাওয়া গেছে।

এবারের প্রস্তাবের ভোট বিশ্লেষণ করে সাবেক আনান কমিশনের সদস্য ও ডাচ কূটনীতিক লেটেশিয়া ভ্যান্ডেন অ্যাসাম টুইট বার্তায় লিখেছেন, ২০১৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে৯টি দেশ তাদের অবস্থান বদলে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের বিপক্ষে অর্থাৎ মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দিয়েছে মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়ে। আর ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও জাপানসহ ২৫টি দেশ ভোটদান থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষ ছেড়েছে নয়টি দেশ। দেশগুলো হলো ক্যামেরুন, ইকুয়েটরিয়াল গিনি, নামিবিয়া, কেনিয়া, লেসেথো, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, পালাউ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ।

এর আগে ২০১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান না নিয়ে ভোটদানে বিরত ছিল ৯টি দেশ। এবার তারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতও ওই সময় নীরব ছিল।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের নীরবতা ও চীনের মিয়ানমারের পক্ষে ভোট দেওয়া হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চীন ও ভারতের হাতে। এই দুই প্রভাবশালী দেশের সমর্থন এবং জোরালো ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।

এ ইস্যুতে ভারত ও চীনের সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কর্ম-অধিবেশনে ১৩০টি দেশ মিয়ানমারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। এটাও দেশের কূটনৈতিক সাফল্য। কিন্তু চীন-ভারতকে প্রত্যাবাসনে জোরালো ভূমিকায় আনতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এই দুই দেশের সমর্থন আদায় করলে সমাধান অনেক সহজ হবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালী উর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজকে ভারত নীরব থেকেছে। এখন আমাদের কাজ হলো ভারতের সমর্থন আদায় করা। মার্চে মোদির ঢাকা সফরের সময় এই ইস্যুকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’