রিপাবলিকানদের শেষ চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় ঠেকাতে তার সব উদ্যোগ বিফলে যাওয়ার পর সর্বশেষ চেষ্টা শুরু করেছেন রিপাবলিকান দলের নেতারা। নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির তদন্ত না হলে জো বাইডেনের জয়ের পক্ষে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন একদল রিপাবলিকান সিনেটর। বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজের নেতৃত্বে ১১ জন সিনেটর ও নবনির্বাচিত সিনেটর অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য ১০ দিন দেরির দাবি জানিয়েছেন।

তাদের এ পদক্ষেপ সফল হবে না বলেই ধরা হচ্ছে। কারণ অধিকাংশ সিনেটর আগামী ৬ জানুয়ারির ভোটে বাইডেনকে সমর্থন দেবেন। এদিন ইলেকটোরাল কলেজের ভোটগুলো অফিশিয়ালভাবে গণনা করা হবে এবং গণনার ফলাফল মেনে নেওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে সিনেটররা ভোট দেবেন। তবে শেষ মুহূর্তে কী ঘটবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারণ অনেক সিনেটরই শেষের দিকে তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেন এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজের নেতৃত্বে এক বিবৃতিতে ১১ সিনেটরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি, নির্বাচন আইন লঙ্ঘন ও ভোটদানের অন্যান্য অনিয়মের নজিরবিহীন অভিযোগ এসেছে। ১৮৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনটি অঙ্গরাজ্যেই উভয় দল জয় দাবি করলে তদন্তের জন্য একটি দ্বিদলীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই উদাহরণ টেনে তারা কংগ্রেসকে একটি কমিশন নিয়োগের দাবি জানান যেন বিতর্কিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে ১০ দিনের জরুরি অডিট পরিচালনা করা হয়। তারা আরও বলেন, ‘অডিট শেষে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য কমিশনের ফলাফলগুলো মূল্যায়ন করবে এবং তাদের ভোটের পরিবর্তনের সত্যতা প্রমাণের জন্য একটি বিশেষ আইনসভার অধিবেশন ডাকবে।’ তবে তাদের সফলতার সম্ভাবনা কম স্বীকার করেন সিনেটররা বলেন, ‘আমরা বোকা নই। আমাদের ধারণা প্রায় সব ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান এর বিপক্ষে ভোট দেবেন।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ভোটের ফলাফল মেনে নেননি। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তিনি। নির্বাচনের ফলাফল বদলানোর যেসব আইনি পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন সেগুলোও আদালতে ব্যাপকভাবে খারিজ হয়ে যায়। এসব লড়াইয়ে শুধু পেনসিলভেনিয়ায় কিছু ডাকযোগের ব্যালটে তিনি জয় পান। এ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বাইডেন জয়লাভ করেন। জর্জিয়াতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, সেখানেও হেরে যান ট্রাম্প। ৬ তারিখে জর্জিয়ার ইলেকটোরালরা যদি ট্রাম্পের পক্ষেও যান, তাতেও দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স অবশ্য ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত ট্রাম্পের দাবির পক্ষে কথা বলা বন্ধ করেছেন। যদিও গত শনিবার তার প্রধান কর্মকর্তা মার্ক শর্ট বলেছেন, ৬ জানুয়ারি আইনপ্রণেতাদের আপত্তি তোলার সর্বশেষ পদক্ষেপকে পেন্স স্বাগত জানিয়েছেন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ৩০৬-২৩২ ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্রিয়া অনুযায়ী এ ফলাফলে কংগ্রেসের সম্মতি আসতে হবে। এর সর্বশেষ ধাপে সিনেটের প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জো বাইডেনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করবেন। এরপর বাইডেন ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন।