নববর্ষের আনন্দ করার সময় মদপান করে অসুস্থ ৬ জনের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানতে পারে, বিদেশি মদের সঙ্গে রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে বিক্রি করেছিলেন বিক্রেতারা। থার্টিফার্স্ট নাইটে সেই মদ পানের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
তারা হলেন- নগরীর হোসেনীগঞ্জ এলাকার ফয়সাল হোসেন (২৮), বাকির মোড় এলাকার সাগর (২৫), হেতমখাঁ এলাকার তুহিন (২৬), কাদিরগঞ্জ এলাকার মুন আহমেদ (১৮) এবং দড়িখড়বোনা এলাকার ইশাকুল ইসলাম (২২) ও জেলার বাগমারা উপজেলার শান্তাপাড়া এলাকার সজল (২৫)।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, মদপানে মৃত ও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা জানার পরই আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের নির্দেশে এবং পরিকল্পনায় বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।
এর মধ্যে বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি দল মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন এবং চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এ ছাড়া গোপন সংবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
এরা হলেন- নগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার পবিত্র সিংয়ের ছেলে পরিমল সিং (৬০), পরিতোষ সিংয়ের ছেলে বাপ্পা সিং (২৮), সাগরপাড়া বল্লভগঞ্জ এলাকার হাসেম আলীর ছেলে মো. সাজু (৩০) এবং রাজপাড়া থানার সিপাইপাড়া এলাকার মৃত আবদুর রউফ ওরফে মতিনের ছেলে ইফতেখার হোসেন ওরফে সুমন (৫০)।
তাদের কাছ থেকে ৩ টি কাচের তৈরি মদের খালি বোতল, টিউনিং মদ (মিশ্রিত মদ) তৈরির তরল পদার্থ ভর্তি ১ টি প্লাস্টিকের তৈরি বোতল, তেতুলের বিচি ভর্তি ১ টি কাচের বোতল, কমলা কালারের ৫০ গ্রাম গুঁড়া রং, ২৯ টি টিন ও প্লাস্টিকের তৈরি কর্ক, ১১টি কর্কের নিব ও ৫০ টি কর্কের প্রোটেকশন, অ্যালকোহল ভর্তি ২ টি প্লাস্টিকের সাদা বোতল উদ্ধার হয়। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
গোলাম রুহুল কুদ্দুস আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা অতিরিক্ত লাভের আশায় বিদেশি মদের সঙ্গে রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে এক বোতলকে একাধিক বোতলে পরিণত করেছিল এবং এই অবৈধ মিশ্রিত মদ মৃত ও অসুস্থ ভিকটিমদের কাছে বিক্রি করেছিলেন। অসুস্থ ব্যক্তিদেরকে ছবি দেখানো হলে তারাও এদেরকে উক্ত মদ বিক্রেতা হিসেবে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।