পুলিশের প্রতিবেদনে দায়মুক্তি পাওয়া ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের বাসায় অস্ত্র ও মাদক পাওয়ার কারণেই তার ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে র্যাব সেবা সপ্তাহ ও রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
র্যাব ডিজি বলেন, ‘তদন্তে র্যাব যা পেয়েছে সে অনুযায়ী মামলা করেছে। আর পুলিশ যা পেয়েছে সে অনুযায়ী তারা প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিষয়, এ নিয়ে মন্তব্য করা যাবে না।’
এদিকে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইরফানের বাসায় আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে ওয়াকিটকিসহ যেসব মালামাল পাওয়া যায় সেসবের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। সেগুলো লিপিবদ্ধ করে আমরা থানায় মামলা করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন সে বিষয়ে আমরা অবহিত নই। তিনি তার বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে যা পেয়েছেন তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কী আছে সেটা আমরা হাতে পেলে এ বিষয়ে পরে জানাতে পারব।’
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ইফরান সেলিমকে দায়মুক্তি দেওয়ায় র্যাবের অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয় কি না এমন প্রশ্নে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘র্যাব যে অভিযানটি পরিচালনা করেছিল সে সময় ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অভিযানে যেসব আলামত পাওয়া গিয়েছিল তার ভিত্তিতে মামলাগুলো করা হয়েছে।’ এ তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব নারাজি দেবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আমাদের হাতে আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাময়িক বরখাস্ত কমিশনার ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে হওয়া দুটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ইফরান সেলিমের কাছে কোনো অস্ত্র ও মাদক ছিল না। তার সহযোগী জাহিদের কাছ থেকে এই অস্ত্র ও মাদক পাওয়া গেছে।
‘র্যাবের জঙ্গি, মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান জোরদার হচ্ছে’ : লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, মাদক, জঙ্গি গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ম্যান্ডেটকে সামনে রেখে র্যাবের জন্ম হয়েছিল। এ তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে গত ১৪ বছর সফলতার সঙ্গে আমাদের অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর র্যাবের লক্ষ্য হবে যে তিনটি বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি তাতে যেন জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারি এবং এসব অভিযান ত্বরান্বিত করতে পারি। তিনি বলেন, জঙ্গিমুক্ত যে দেশ চেয়েছি আমরা নতুন বছরেও এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করব। জঙ্গিবিরোধী অভিযান ত্বরান্বিত করব।