ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামে নিহত রাজু সাহা (২২) মৃত্যুর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছেন বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। নিশ্চিত হওয়ার পর রাজুর মরদেহ তুলে দেওয়া হয় তার স্ত্রী জাকিয়ার (২০) হাতে।
এদিকে রাজুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রাজমিস্ত্রি জসীম মোল্লা (২১)। জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে জসীমকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজু সাহা উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের কামারখালী গ্রামের মৃত সুজিত সাহার ছেলে। এই পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মাঝকান্দী গ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। পাশেই জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দিতে একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন প্রায় এক বছর ধরে। ওই কাজ দেখাশোনা করতেন রাজু।
গত শনিবার দিবাগত রাতে রাজুকে হত্যা করে টয়লেটের ট্যাংকিতে লুকিয়ে রাখে রাজমিস্ত্রি জসীম। রোববার সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার রাজুর মা অরুনা রানি সাহা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন মধুখালী থানায়। সোমবার সকালে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রাজমিস্ত্রি জসীমকে।
রাজুর মৃত্যুর পর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মুসলিম তরুণী জাকিয়া দাবি করেন ২০১৮ সালের ৫ জুন রাজু ধর্মত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং ৭ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে বিয়ে করেন। তাদের ছয় মাসের একটি সন্তান রয়েছে। তবে রাজুর মা দাবি করেন তার ছেলে অবিবাহিত ছিলেন।
এ প্রেক্ষাপটে ময়না তদন্তর পর রাজুর মৃতদেহ কার হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং তার শেষকৃত্য কোন ধর্ম অনুযায়ী হবে তা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফলে মঙ্গলবার লাশটি কোন পক্ষের কাছে হস্তান্তর না করে ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিম ঘরে রাখা হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা জানান, এ জটিলতা নিরসনে রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জাকিয়াকে বিয়ে করেছেন কিনা তা তদন্ত করার জন্য গত মঙ্গলবার এস আই সাইফুদ্দিনকে ঢাকার মেট্রোপলিটন কোর্টে পাঠানো হয়। তদন্ত জাকিয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রমাণ হয়েছে রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে জাকিয়াকে বিয়ে করেছিলেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো.আলিমুজ্জামান বলেন, রাজুর ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার মধুখালী থানায় রাজুর মাসহ পরিবারের সদস্য, স্ত্রী ও এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে স্ত্রী জাকিয়ার হাতে রাজুর মৃতদেহ তুলে দেওয়া এবং ইসলামি রীতি মেনে তার শেষকৃত্য আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বিকেলে রাজুর লাশ তার স্ত্রী জাকিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রাজ মিস্ত্রি জসীম মোল্লা (২১)। গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের পাঁচ নম্বর আমলি আদালতের বিচারিক হাকিম সাদীয়া আফরিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে জসীমকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।