গ্রাহক ভোগান্তি কমিয়ে বাণিজ্যিক কাজ সহজ করতে ‘সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে’ শীর্ষক সমঝোতা স্মারকে সই করেছে সোনালী ব্যাংক এবং আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (সিসিআইঅ্যান্ডই)। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ই-পেমেন্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চুক্তি স্বাক্ষরকালে সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান এবং সিসিআইঅ্যান্ডইর প্রধান নিয়ন্ত্রক সোলেমান খান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ই-পেমেন্ট চালুর কারণে গ্রাহকরা সনাতন ধারার ব্যাংকে গিয়ে ম্যানুয়াল পেমেন্টের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে। ফলে তাদের সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে। ঘরে বসেই এই পেমেন্ট করা যাবে। অন্যদিকে সিসিআইঅ্যান্ডইর কর্মকর্তারা বাস্তব সময়ে ই-চালানের তথ্য পাবেন। ফলে আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত সেবাগুলো আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।
ই-পেমেন্ট সুবিধার কারণে পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহক ক্যাশ অন কাউন্টার, অনলাইন অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডসহ অন্যান্য পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে অনলাইনে পেমেন্ট দিতে পারবেন।
২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আমদানি নিবন্ধন সনদ, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ, শিল্প আমদানি নিবন্ধন সনদ, ইন্ডেন্টিং নিবন্ধন সনদ ইত্যাদি সেবা অনলাইনে অনলাইন লাইসেন্সিং মডিউল (ওএলএম) সফটওয়্যার দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সেবা পেতে নির্ধারিত ফি টিআর চালানের মাধ্যমে ব্যাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে ম্যানুয়ালি জমা করতে হতো গ্রাহকদের। এরপর সেই চালানের স্ক্যান কপি আপলোড করে সিসিআইঅ্যান্ডই সেবার জন্য আবেদন করতে হয়। এতে টিআর চালান জমা হওয়ার পরদিন দুপুর ১২টার পরে সিজিএ অফিসের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে যাচাই করা হয়। ফলে সেবাগ্রহীতাকে চালানে অর্থ জমা দেওয়ার পরেও কাক্সিক্ষত সেবার জন্য এক দিন অপেক্ষা করতে হতো। এর অন্যতম কারণ পেমেন্টব্যবস্থা ছিল সনাতনী ধাঁচের। আর সেই ভোগান্তি নিরসনে চালু হয়েছে ই-পেমেন্টব্যবস্থা।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। অনেক কিছু বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভীষণ উন্নতি হয়েছে। আমরা কখনো চিন্তা করিনি বাড়িতে বসে অনলাইনে পেঁয়াজ কিনতে পারব। করোনায় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা শুভ লক্ষণ।
তিনি বলেন, সিসিআইঅ্যান্ডই গত জুন থেকে ডিজিটাল কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা চাই সবাই ঘরে বসে সব ধরনের সুবিধা উপভোগ করুক।