জুলাই থেকে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া

আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। ওই সময়ের আগে গ্রাহকদের হাতে থাকা সচল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। গতকাল বিটিআরসি কার্যালয়ে টেলিকম খাতের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়ম অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এ তথ্য জানান।

অবৈধ মোবাইল সেট বন্ধ ও বৈধ সেটের নিবন্ধনে গত ডিসেম্বরে বিটিআরসির সঙ্গে চুক্তি করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি। চুক্তি অনুযায়ী ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম চালু করতে হবে সিনেসিসকে।

কবে নাগাদ অবৈধ ও নকল হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে প্রশ্নে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে সেটগুলো গ্রাহকের হাতে আছে, তাদের ডিসটার্ব না করে কাজটি করতে চাই। যে সেটগুলো চালু আছে, তাদের ইনকরপোরেট করে নেব, সেই সুযোগ দেব। নতুন যেগুলো আসবে, সেগুলো অবশ্যই নিবন্ধন হয়ে আসতে হবে। আমরা সেই প্রক্রিয়ায় যাব, আমরা গ্রাহকদের কোনো সমস্যায় ফেলতে চাই না।’

শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে অবৈধ সেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিদ্যমান যে সেটগুলো গ্রাহকের হাতে থাকবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব, যাতে সমস্যা না হয়। ১ জুলাই সব চালু সেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেটরদের মাধ্যমে নিবন্ধন হয়ে যাবে।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। সেট বৈধ কি না, তা এখন যাচাই করা যাচ্ছে। ১৬ জানুয়ারি প্রতিটি অপারেটর ম্যানুয়ালি আমাদের জানাবে নতুন কোন সেটগুলো তাদের নেটওয়ার্কে আছে। এগুলো ম্যানুয়ালি অননেট চেক করে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে জানাব, সেটটি বৈধ কি অবৈধ। বাকিগুলো যেটা অপারেশন করে বন্ধ করা হবে, সেটি ১ জুলাই থেকে অনলাইন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যে তথ্য অপারেটররা জানাবে তা নেটওয়ার্কে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে পরবর্তী সময়ে যদি দেখা যায় তা অবৈধ তাহলে ব্লক করা হবে। বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে জনগণকে বলা হচ্ছে যাচাই করে সেট কেনার জন্য।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া শুরু হলে অবৈধ হ্যান্ডসেটে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট একটি সিম ছাড়া অন্য কোনো সিম কাজ করবে না। নির্দিষ্ট সময় পরে কোনো সিমই কাজ করবে না। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করবেন।

এদিকে গতকাল সকালে অপর এক মতবিনিময় সভায় টেলিযোগাযোগ খাতের সময়োপযোগী উন্নয়নে বিভিন্ন অপারেটরকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান। ভ্যাট-ট্যাক্সসংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা থাকলে সেগুলো সমাধানেরও আশ্বাস দেন তিনি। মতবিনিময় সভায় দেশের ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (নিক্স), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে অপারেটররা উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে আইআইজি অপারেটরস ফোরামের পক্ষে লেভেল-থ্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুনায়েদ বলেন, দেশের সব জেলায় ইন্টারনেট সেবা দিতে প্রচুর বিনিয়োগের দরকার, তাই রেভিনিউ শেয়ারিং কমানোর দাবি জানান তিনি।  ডিপিআই ক্যাপাসিটি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে সব আইএসপিকে আইআইজি থেকে ব্যান্ডউইডথ নেওয়ার বিষয়ে বিটিআরসির সহযোগিতা চান তিনি। 

ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (নিক্স) ফোরামের পক্ষ থেকে বিডিআইএক্সের প্রতিনিধি কামার মুনির আইএসপি থেকে কানেকশন নেওয়ার পাশাপাশি যাদের আইপি আছে, তাদের থেকেও সংযোগ নেওয়ার সুযোগ প্রদানসহ কনটেন্টগুলো নিক্স অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়ে কমিশনের সহযোগিতা কামনা করেন। ইন্টারনেট সেবাদানকারী অপারেটরদের পক্ষে আইএসপিএবির সভাপতি আবদুল হাকিম ঝুলন্ত তার সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেন।

বিটিআরসির কমিশনার (লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং) আবু সৈয়দ দিলজার হুসেইন অপারেটরদের সমস্যাগুলো প্রচলিত নীতিমালা ও আইনের আলোকে সমাধানের আশ^াস দেন। কমিশনের মহাপরিচালক (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) প্রকৌশলী মো. মেসবাহুজ্জামান নতুন গাইডলাইনে আইআইজি থেকে আইএসপির ব্যান্ডউইডথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা যুগোপযোগী বলে মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে  আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করবে বিটিআরসি। অপারেটরদের স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, অন্যায় কিংবা অযৌক্তিক কোনো সিদ্ধান্ত কমিশন অপারেটরদের ওপর চাপিয়ে দেবে না।