সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. বে-নজীর আহমেদ সংক্রামক রোগ বিষয়ে শিক্ষকতা, গবেষণা ও কর্মসূচি পরিচালনায় দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষত কালাজ¦র, ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ, জলাতঙ্ক ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার জন্য সুবিদিত অধ্যাপক বে-নজীর। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘ সংস্থা ইউনিসেফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়, সহায়তা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গোদ রোগ, কালাজ্বর ও ক্রিমি রোগবিষয়ক পরামর্শক হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। করোনার টিকা এবং বাংলাদেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচির নানা দিক নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন
দেশ রূপান্তর : ইতিহাসে এবারই দ্রুততম সময়ে কোনো বৈশ্বিক মহামারীর টিকা আবিষ্কার করা হলো। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্না এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথভাবে উদ্ভাবিত টিকাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের দেহে এ টিকাগুলোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। করোনার টিকা নিয়ে আর কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন কি? করোনার নতুন টিকা বিষয়ে জানতে চাই।
বে-নজীর আহমেদ : ঝুঁকি আছে বলা যাবে না, তবে নানা অনিশ্চয়তা তো আছেই। যে টিকাগুলো পাঁচ-সাত বা আট-দশ বছর ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে বাজারে আসে বা ব্যাপক পরিসরে ব্যবহৃত হয়, লম্বা সময়ের ট্রায়ালের কারণে সেগুলোর নানা দিক সম্পর্কে অনেক বেশি জানা যায়। এক. যারা ট্রায়ালে অংশ নিলেন দুই বছর পর বা পাঁচ বছর পর তারা কেমন থাকলেন সেসবও জানা যায়। এবারে আমরা সেই সময়টা পাচ্ছি না। ফলে দুই বা তিন বছর পর এর কার্যকারিতা কেমন থাকতে বা মানবদেহে টিকার আর কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে সেটা আমাদের জানা হলো না। দুই. এবারে প্রযুুক্তিগতভাবে অত্যাধুনিক একটা টিকা বাজারে এলো। ফাইজার, মডার্না নিয়ে এলো ‘এমআরএনএ’ বা ‘মেসেঞ্জার রাইবো-নিউক্লিয়িক এসিড’ প্রযুক্তির টিকা। আমরা এতদিন পর্যন্ত কয়েকভাবে টিকা তৈরি করতাম। একটা হলো জীবাণুটাকে মেরে ফেলে সেটাকেই টিকা হিসেবে ব্যবহার করা, যেটাকে ‘কিউর ভ্যাকসিন’ বলা হয়। আরেকটা হলো ‘এটিনিউয়েটেড ভ্যাকসিন’, যেমন ধরুন পোলিওর টিকা। এটিনিউয়েটেড মানে হালকা করা বা নির্বিষ করা। অর্থাৎ ওই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলেও সেটা ক্ষতি করতে পারবে না, বরং সেটাই প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি করবে। এগুলো ছিল আরেক ধরনের ভ্যাকসিন। মেসেঞ্জার-আরএনএ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রযুক্তি। আগের টিকাগুলোই ছিল অ্যান্টিজেনভিত্তিক। আর ‘মেসেঞ্জার রাইবো-নিউক্লিয়িক এসিড’ শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়ার পর সেটাই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন তৈরি করবে শরীরে। সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় এ ক্ষেত্রে হয়তো কিছু অনিশ্চয়তা থাকতে পারে যা আমরা এখনো জানি না।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের বিশিষ্ট অণুজীববিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কাছে দুটি সুপারিশ করেছেন। এক. টিকা দেওয়ার আগে যাকে দেওয়া হবে, তিনি টিকাগ্রহণে যোগ্য কি না সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করতে হবে। দুই. টিকা দেওয়ার পর কাজ করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এটা করা কেন জরুরি আর কীভাবেই বা সেটা করা যেতে পারে? সরকার কি এ পথে হাঁটবে বলে মনে করেন?
বে-নজীর আহমেদ : সরকার এ পথে হাঁটবে বলে মনে করি না। কারণ এজন্য অ্যান্টিবডি টেস্টের দরকার। ব্যাপক পরিসরে পরীক্ষা করতে হলে ইতিমধ্যেই অ্যান্টিবডি টেস্ট চালু করে দেওয়া উচিত ছিল। তারপরও এটা অসম্ভব নয়। বিজন কুমার শীল যেটা বলেছেন, তা হলো, কাউকে টিকা দেওয়ার আগে তার শরীরে কভিডের অ্যান্টিবডি আছে কি না সেটা দেখে নেওয়া। ধরুন আমি সংক্রমিত হয়েছি কিন্তু পরীক্ষা করিনি দেখে জানি না আমার অ্যান্টিবডির কী অবস্থা। যদি ভালো পরিমাণে অ্যান্টিবডি থাকে তাহলে আমার আসলেই টিকা প্রয়োজন কি না এভাবে সেটা যাচাই করা। এটা নিয়ে মতান্তর আছে। কোনো কোনো দেশ এ পথে হাঁটলেও বেশিরভাগ দেশই ঢালাওভাবে টিকা দেওয়ার দিকেই যাচ্ছে। দ্বিতীয় যে বিষয়টি তিনি বলেছেন যে, টিকা দেওয়ার পর সেটার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা, সেটা খুবই জরুরি। কারণটা হলো, আমরা তো একবারেই সবার জন্য টিকা পেয়ে যাচ্ছি না। কয়েকটা ধাপে হয়তো কয়েক লাখ করে করে আমরা টিকা দিতে পারব। আর সবাইকেই যে একই টিকা দিতে পারব বিষয়টা সেরকমও নয়। ফার্স্ট ডোজ দেওয়ার পর কতদিন আর সেকেন্ড ডোজ দেওয়ার পর অ্যান্টিবডি কতদিন থাকছে সেটাও দেখতে হবে। এখন একটা টিকা দেওয়ার পর যদি দেখা যায় যে এর অ্যান্টিবডি শরীরে বেশিদিন কার্যকর থাকছে না তারপরও কি আমরা সেই টিকা নিয়ে এগোতে থাকব, নাকি যেটা ভালো কাজ করছে, বেশিদিন থাকছে সেই টিকা নেব? এসব কারণেই টিকা দেওয়ার পর সেটার ফলাফল ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
দেশ রূপান্তর : টিকাদান বিষয়ে বাংলাদেশের দক্ষতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে করোনার টিকা দেওয়ার জন্য ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’তে ব্যবহৃত কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করা হবে না। টিকা দেওয়া হবে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়, আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো স্থানগুলোতে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদানে অভিজ্ঞ জনবল ও অবকাঠামো পাশ কাটিয়ে নতুন জায়গায় নতুন কাঠামোয় টিকা দিতে গিয়ে ব্যবস্থাপনাগত কোনো সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন কি?
বে-নজীর আহমেদ : এ প্রশ্নটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আসলে টিকাদানের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দুটোকেই আমলে নিতে হবে। এতদিন আমরা যেসব টিকা দিয়েছি করোনার টিকা দেওয়া তার থেকে খুব ভিন্ন কিছু নয়। আমি মনে করি আমাদের স্বাস্থ্য-সহকারীরাই এ টিকা দিতে পারতেন। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টিকা দেওয়ার ‘কোল্ড চেইন’ মেইনটেইন করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এখন যেটা করা হচ্ছে নার্স বা অন্যান্য যারা এ কাজ করবেন তারা এ বিষয়ে এতটা অভিজ্ঞ নন বিধায় এটা একটা কনসার্ন হতে পারে। তারা যে এটা পারবেন না তেমনও নয়। উভয়পক্ষই এটা পারবেন। কিন্তু টিকাদান কর্মসূচির অভিজ্ঞদের কাজে না লাগানোর কারণটা স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই ভাবছেন না যে টিকাদান কর্মসূচির কাঠামোয় গেলে কোনো ঝুঁকি আছে! তাহলে তো প্রশ্ন করতে হয় যে, এতদিন কোটি কোটি শিশু আর মায়েদের যে আমরা টিকা দিলাম, সেটা কি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল? নিশ্চয় নয়। আরেকটা বিষয় হলো, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের মতো স্থানে টিকাদানের কাজে স্বাস্থ্যকর্মীরা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন সেটা। কেননা এসব স্থানে একটা রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ের মধ্যে পড়তে হতে পারে। আর হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জীবাণু বা রোগপ্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার যে অভ্যস্ততা রয়েছে এমন সব স্থানে সেটা হয়তো নতুন করে তৈরি করতে হবে।
দেশ রূপান্তর : নাগরিক সমাজের কেউ কেউ এবং কিছু সংগঠন বলেছে, টিকা আমদানি এবং টিকাদানের প্রক্রিয়ায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের অংশগ্রহণ যুক্ত হলে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করা সহজ হতো। অন্যদিকে জানতে চাইছি যে, আসলে কোন প্রক্রিয়ায় দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদেরও টিকাদানের আওতায় আনা সহজ হবে?
বে-নজীর আহমেদ : আমি সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করি। আমি কখনই মনে করি না দেশব্যাপী মহামারীর টিকাদানে প্রাইভেট সেক্টরকে আনা উচিত হবে। দেশব্যাপী সংক্রামক রোগ বা ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, কালাজ¦র কিংবা কলেরা নিয়ন্ত্রণের এবং ইপিআই কর্মসূচির যে অভিজ্ঞতা সেটা পুরোপুরি সরকারি। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক এবং প্রধান কার্যালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন সময় আমাকে এসব বিষয়ে রিভিউও দিতে হয়েছে। এছাড়া ভারতে কালাজ¦র নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবেও কাজ করেছি আমি। সব ক্ষেত্রেই আমার অভিজ্ঞতা হলো ওষুধ বা টিকা বা এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টর যুক্ত হলে প্রথম যে সমস্যা হয় সেটা হলো মান নিয়ন্ত্রণ। বেসরকারি খাতে মুনাফা এক নম্বর বিষয় হওয়ায় মান নিয়ন্ত্রণ দুই নম্বরে চলে যায়। আর সরকারি উদ্যোগে মুনাফার প্রশ্ন নেই বলে মান নিয়ন্ত্রণই অগ্রগণ্য বিষয়। দেশের সাধারণ মানুষ বলেন কিংবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কথাই বলেন, সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হলে, অবশ্যই এ কার্যক্রম পুরোপুরি সরকারি এবং বিনামূল্যে হতে হবে।
দেশ রূপান্তর : করোনার টিকাদানের জন্য অগ্রগণ্যতার ক্রম বা অগ্রাধিকার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে জাতীয় পরিকল্পনায়। বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে জেলা/সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/উপজেলা কভিড-১৯ কমিটি। এজন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুটো বিষয় জানতে চাইব। এক. মাঠপর্যায়ের অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগকে পাশ কাটিয়ে জনপ্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ায় কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন কি না? দুই. জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য সনদ দিয়ে অনলাইন নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষরা অসুবিধায় পড়তে পারে কি না? এছাড়া বিকল্প কোনো পন্থা ভাবা যেত কি?
বে-নজীর আহমেদ : করোনার শুরু থেকেই আমরা একটা বিষয় লক্ষ্য করছি যে, স্বাস্থ্য বিভাগের যে বিভিন্ন সেবাদান কেন্দ্র আছে, যে লোকবল ও সক্ষমতা আছে সেসব আমরা যথার্থভাবে সদ্ব্যবহার করছি না। তাদের আমরা পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রেও সে ঘটনাই ঘটছে। অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির দায়িত্বে জেলায় ডিসি এবং উপজেলায় ইউএনও প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। এটা কেন? চিরদিন স্বাস্থ্যের কাজ করে এসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আমরা যে শিশুদের টিকা দিই, ক্রিমির ওষুধ খাওয়াই, আরও নানা টিকাদান কর্মসূচি চালাই এ তালিকাগুলো কারা করে? স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথমত ডিসি, ইউএনও বা এমন কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্যের গুরুতর বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে গেলে স্বাস্থ্যের চেয়ে অন্য বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়ার আশঙ্কা আছে। এখানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের মতো বিষয় চলে আসবে। তালিকা করবে প্রশাসন আর টিকা দেবে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর ফলে টিকাদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার তালিকায় পেছনে চলে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত অনলাইনে নিবন্ধনের বিধান করলে গ্রামের মানুষ, প্রান্তিক মানুষের অ্যাকসেসিবেলিটি বা প্রবেশযোগ্যতা কঠিন হবে। কেননা সব মানুষের হাতে যেমন ইন্টারনেট বা প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই তেমনি সবাই সেগুলো অপারেটও করতে পারে না। তখন এ মানুষদের যেতে হবে ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের সমাজের সাধারণ চর্চায় নানা সংকট যে আছেই সেটা আমরা সবাই জানি।
প্রশ্ন হতে পারে যে তাহলে কীভাবে তালিকা করা ও নিবন্ধনের কাজ করলে ভালো হতো। সেটা নিয়েই বরং কথা বলি। আমরা জানি আমাদের ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। অর্থাৎ প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটা কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এখানে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং পরিবারকল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) এবং স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) আছে। আর এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে উপসহকারী মেডিকেল অফিসাররাও যুক্ত। এরা সপ্তাহে কয়েক দিন করে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ব্র্যাকসহ নানা এনজিওর কর্মীরা রয়েছেন যারা স্বাস্থ্য খাতে কাজ করছেন। এমন কোনো গ্রাম পাবেন না যেখানে ব্র্যাকের কর্মী নেই। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের চারপাশে গড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ করে হাউজহোল্ড আছে। আমরা যদি এ স্বাস্থ্যকর্মী ও এনজিওকর্মীদের দিয়ে সারা দেশে জরিপের মাধ্যমে একটা তালিকা করতাম তাহলে সবচেয়ে ভালো হতো। করোনার টিকার জন্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিবেচনায় সত্যিকার অগ্রাধিকার তালিকাটা আমরা পেতাম।