রাজধানীর রামপুরা থেকে এবার ৮৫ কোটি টাকার সাপের বিষ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে র্যাব। গতকাল শুক্রবার রামপুরা চৌধুরীপাড়ার লোহার গেট এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-১২-এর একটি দল। অভিযানের পর র্যাব জানায়, ফ্রান্স থেকে সংগ্রহ করা সাপের বিষ চোরাচালানের মাধ্যমে এ দেশে আনা হয়েছিল। এসব বিষ বহন করছিল আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্যরা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শফিকুল ইসলাম, জহিরুল হক, মজিবুর রহমান, মো. দুলাল ও মোকলেসুর রহমান। তারা মূলত সাপের বিষের বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর র্যাব-২-এর একটি দল রাজধানীর দক্ষিণখানের গুলবার মুন্সি সরণি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৫ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গতকাল বিকেলে চৌধুরীপাড়া লোহার গেট এলাকায় তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১২-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, সাপের বিষের সঙ্গে থাকা ম্যানুয়াল থেকে জানা যায়, ফ্রান্স থেকে এগুলো সংগ্রহ করা হয়। এসব বিষ তরল, ক্রিস্টাল ও পাউডার আকারে উদ্ধার হয়। এই বিষ বাংলাদেশ হয়ে কোথায় যাচ্ছিল, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১২-এর একটি দল জানতে পারে রামপুরা থানা এলাকায় একটি চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ সাপের বিষ হাতবদল করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার চক্রের পাঁচ সদস্যের কাছে পাওয়া যায় ১২ পাউন্ড সাপের বিষ, ছয়টি টেস্টিং কিট, সিডি ও একটি ম্যানুয়াল। উদ্ধার করা বিষের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই বিষের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ব্যবহার রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পাশাপাশি মাদক ও ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার করে থাকে অসাধু কারবারিরা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জব্দ করা বস্তু সাপের বিষ বলেই আমরা তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি। তবে পরীক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
র্যাব জানায়, আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সাপের বিষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে এই চক্র বিষ চোরাচালান করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।