ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান সব সময় তার ভক্তদের জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। তাই ভক্তরা তার কোনো অর্জন বা নতুন কাজে যারপরনাই খুশি হয়ে যান। নতুন বছরে শাকিবভক্তদের জন্য রয়েছে একাধিক খুশির খবর। প্রথম খবরটি কাজকে ঘিরে। অনেকেই জানেন, শাকিব খান আর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার সম্পর্ক একসময় কতটা গভীর ছিল। এই সংস্থার সিনেমায় পরপর টানা কাজ করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্র পরিবারের ১৮ সংগঠন যখন শাকিব খানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া তাকে নিয়ে একের পর এক সিনেমা নির্মাণ করেছিল। ‘আমি নেতা হব’, ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, ‘ক্যাপ্টেন খান’, ‘শাহেনশাহ’ সিনেমাগুলো আলোচিতও হয়। শাকিব অভিনীত এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমা ‘বিদ্রোহী’ এখনো মুক্তির অপেক্ষায়। কিন্তু যারা একটু খোঁজখবর রাখেন তারা এও জানেন যে, শাকিব আর শাপলা মিডিয়ার সম্পর্ক আর আগের মতো নেই। মাঝে শাপলা মিডিয়ার প্রধান সেলিম খানের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় শাকিবের। এরপর প্রস্তাব পেলেও প্রতিষ্ঠানটির সিনেমা করতে অস্বীকৃতি জানান শাকিব। প্রতিষ্ঠানটি তখন শাকিবের পরিবর্তে কলকাতার নায়ক দেবকে নিয়ে ‘কমান্ডো’ সিনেমা শুরু করে। তবে সুখবর হলো শাপলা মিডিয়ার সঙ্গে শাকিবের সম্পর্কের বরফ গলেছে। প্রযোজক এম ডি ইকবালের মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠানটির সিনেমায় আবার কাজ করার সম্মতি দিয়েছেন শাকিব। এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যেমন দুঃসময়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল, আমিও অল্প পারিশ্রমিকে তাদের কাজ করে দিয়েছি। তাদের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১৭-১৮ সালে পরপর তিনটি যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছেড়ে দিয়েছিলাম। যাই হোক, এখন আমাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আবারও শাপলা মিডিয়ার নতুন সিনেমায় আমাকে দেখা যাবে।’
আরেকটি সুখবর হলো, বিশ্বের জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যামাজন প্রাইম’-এ প্রদর্শিত হচ্ছে দেশের শীর্ষ তারকা শাকিব খানের তিনটি সিনেমা। তবে বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে নয়, ঢাকাই ‘কিং খান’-এর এই তিনটি সিনেমা ইন্ডিয়ান সিনেমা হিসেবে চলছে! সিনেমাগুলো হচ্ছে ‘শিকারী’, ‘চালবাজ’ ও ‘ভাইজান এলো রে’। তিনটি সিনেমাই শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে মনে করেন সিনেপ্রেমীরা। এ সিনেমাগুলোর মাধ্যমে নতুন শাকিব খানকে দেখতে পান দর্শক। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের কাছেও তিনি নতুন করে পরিচিতি অর্জন করেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনটি সিনেমা প্রযোজনা করে সেখানকার নামি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজ। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার অশোক ধানুকা জানিয়েছেন, চড়ামূল্যে সিনেমাগুলো অ্যামাজান প্রাইম অ্যাপে প্রদর্শিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ১৫০ মিলিয়নের বেশি সাবস্ক্রাইবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যামাজন প্রাইম’-এ শাকিবের এসব সিনেমা দেখতে পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘এটা শুধু আমার একার অর্জন নয়, এটা আমাদের পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অর্জন। এজন্য সবচেয়ে কৃতজ্ঞ ভক্ত ও দর্শকের প্রতি। তারা সিনেমা হলে সিনেমাগুলোকে সাফল্য না দিলে অ্যামাজন প্রাইম চড়ামূল্যে সিনেমাগুলো কিনত না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় বলে আসছি, বাংলাদেশের সিনেমাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। এটা সেটারই একটা পদক্ষেপ বলা যেতে পারে।’
এদিকে, ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাকিব খান ফিল্মসকে (এসকে ফিল্মস) স্বীকৃতি দিয়েছে। যার ফলে শাকিব খান ফিল্মসের পাশে দেখা যাচ্ছে নীল বৃত্তের মধ্যে সাদা টিক চিহ্ন। ফলে এ প্রযোজনা সংস্থার পেজটি এখন থেকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকবে। সেই সঙ্গে ভেরিফায়েড হওয়ায় এসকে ফিল্মসের নামে ভুয়া পেজগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৫ সালে শাকিব খানের ফ্যান পেজ ভেরিফায়েড হয়। এবার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মসকে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ স্বীকৃতি দেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে শাকিব খান বলেন, ‘ভেরিফায়েড হওয়ায় অফিশিয়াল পেজ কোনটা সহজেই বোঝা যাবে।’ তিনি আরও জানান, ‘এসকে ফিল্মস নিয়ে আগামীতে অনেক পরিকল্পনা। সবকিছুর আপডেটগুলো পেজ থেকে পাওয়া যাবে। পেজটি রাইট ম্যানেজার করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।