চারঘাটে মাইকিং করে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১

রাজশাহীর চারঘাটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মাইকিং করে জড়ো হওয়া দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে মো. রেজাউল (৫৫) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের শিবপুর ও পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার দিঘলকান্দি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

রেজাউল চারঘাট উপজেলার শিবপুর এলাকার মৃত হালিম উদ্দীনের ছেলে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে চারঘাট ও পুঠিয়া থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েক দিন আগে চারঘাটের শিবপুর এলাকার লোকজনের সঙ্গে মারামারি হয় পুঠিয়ার দিঘলকান্দি গ্রামের কয়েক যুবকের। এ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চারঘাট ও পুঠিয়া থানার পুলিশ চেষ্টা করে। এরই মধ্যে গতকাল সকালে গ্রামবাসীর মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়পক্ষ মাইকিং করে লোকজন জড়ো করতে থাকে। তারা দুই গ্রামের সীমান্তবর্তী শিশিতলা গ্রামে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেয়।

খবর পেয়ে চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম ও মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু, পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খালেদুল রহমান প্রমুখ ঘটনাস্থলে হাজির হন। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে দুপুরে দুইপক্ষের লোকজন নিয়ে সমঝোতার জন্য সালিশে বসেন। সালিশ চলাকালে দিঘলকান্দি গ্রামের আখতার আলীর ছেলে সবুজ আলী ও আলী হোসেনের ছেলে আবু শামার নেতৃত্বে গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। পরে দুইপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে রেজাউলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেজাউলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চারঘাট মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর দুইপক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে হামলা খুবই দুঃখজনক। এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছে চারঘাট ও পুঠিয়া থানার পুলিশ। বাকিদের শনাক্ত ও ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।