আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘অনিয়মের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি এই নির্বাচন করছি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমি যখন অনিয়ম-অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি ও প্রতিবাদ করি, তখন জাতীয়ভাবে বলা হয় আমি নাকি উন্মাদ ও পাগল। আমি এর বিচার আপনাদের কাছে দিলাম।’ গতকাল শনিবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পথসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, ‘আমি পাগল?’ এ সময় জনগণ উত্তর দেয়, ‘না, না।’ এরপর মির্জা কাদের বলেন, ‘১৬ তারিখে আমি পাগল না কী, সেটা প্রমাণ করব।’
নৌকার প্রার্থী মির্জা কাদের আরও বলেন, ‘যে আমাকে পাগল আর উন্মাদ বলেছে, গোপালগঞ্জে যেখানে ৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগ, সেখান থেকে সে এমপি হয়েছে। আগে মন্ত্রী ছিল, এখন নেই। ওনার সম্পর্কে সবাই জানে। কী কী অনিয়ম তিনি করেছেন। অনিয়ম না করলে ওনাকে মন্ত্রী বানায়নি কেন? উনি আমাকে বলেন, পাগল, উন্মাদ। আরেক নেতা বলেছেন, দায়িত্বশীলতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। আপনি তো দায়িত্বশীল ব্যক্তি, আপনার বাড়ি কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যারা ভেঙেছে, আপনি কি দায়িত্বশীল লোক? এগুলো বন্ধ করেন। কী করবেন? বহিষ্কার করবেন? জেলে দেবেন? মেরে ফেলবেন? আমি সারা দেশের কথা বলিনি, আমি আপনাদের কথা বলিনি, আমি বলেছি নোয়াখালী ও ফেনীর অপরাজনীতির কথা। আপনারা কেন নিজেদের গায়ের ওপর নিচ্ছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমি মনে করি শেখ হাসিনা অসহায়, কেন অসহায়? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মৌলবাদী অপশক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি আজকে শেখ হাসিনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আজকে দলের অভ্যন্তরে চাটুকাররা রাত দিন শেখ হাসিনাকে উত্ত্যক্ত করছে। দল দেখতে হয়, দেশ দেখতে হয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। তার কি সময় আছে আমার এই কোম্পানিগঞ্জ দেখার, নোয়াখালী দেখার ও ফেনী দেখার?’
মির্জা কাদের বলেন, ‘দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ব্যবস্থা করতে হবে শেখ হাসিনার, তাহলে আপনাদের কাজ কী? আপনারা কী কী করেছেন? আমি সবার কথা বলি না। ভালো লোক মন্ত্রীদের ভেতরে আছে; না হলে দেশ চলে কীভাবে।’
বিগত কয়েকটি নির্বাচন ও অতীতে পুলিশের ওপর জামায়াতের হামলার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখনো সে অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এখানকার প্রশাসনকে বলে লাভ নেই। যদি কোম্পানীগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র চলে, নির্বাচনে রং লাগানোর জন্য ষড়যন্ত্র চলে, যদি কোম্পানীগঞ্জে কোনো মায়ের বুক খালি হয়, যদি কোম্পানীগঞ্জে আমার কোনো কর্মীর গায়ে কেউ হাত দেয়, এখানে যদি অস্থিতিশীল পবিবেশ সৃষ্টি হয়, কারও ঘরে আগুন লাগায়, কারও চিনে (ঘড়েরগাদা) আগুন লাগায়, সব দায়িত্ব ডিসি-এসপি আপনাদের নিতে হবে। জনতার কাতারে আপনাদের বিচার করা হবে।’