পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম মূলধন উত্তোলনের শর্ত থেকে অব্যাহতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। তবে এই ছাড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হলে বীমা কোম্পানিগুলোকে ইকুইটির ন্যূনতম ২০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থাকতে হবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্তির আবেদনের সময় বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ১৫ কোটি টাকা থাকতে হবে।
নতুন বীমা কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সম্প্রতি এমন শর্তারোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এসইসি। এসইসির এই শর্তারোপে পুঁজিবাজারে আরও অন্তত ১০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে ধারণা করছে কমিশন।
বিদ্যমান সিকিউরিটিজ বিধি অনুযায়ী, স্থির মূল্য পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ বা ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা হতে হবে। তবে নতুন বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন কম থাকায় এসইসির বেঁধে দেওয়া পরিমাণের শেয়ার ছাড়তে হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার আইডিআরএর বেঁধে দেওয়া পরিমাণের চেয়ে কমে যাবে। এ কারণেই বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে এসইসি। এর ফলে ওই ২৬ বীমা কোম্পানি সর্বনিম্ন ১৫ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণের অর্থ পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নীতিমালা অনুযায়ী, বীমা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে অন্তত ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।
ইতিমধ্যেই এক্সপ্রেস ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স মূলধন উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ২৬ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করেছে। অর্থ সংগ্রহের পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৬৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। অর্থ সংগ্রহের পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এর বাইরে আরও ২৪টি বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এসব কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে হলে এসইসির শর্তানুযায়ী তাদের ইকুইটির অন্তত ২০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থাকতে হবে। বর্তমানে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আইপিও আবেদন জমা রয়েছে। বর্তমানে এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ২৪ কোটি টাকা। স্থিরমূল্যের আইপিওতে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন জানিয়েছে। তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে ৪০ কোটি টাকা।
তালিকাভুক্তির আবেদন করা বীমা কোম্পানিগুলোর ইকুইটির ২০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের যে শর্ত দিয়েছে এসইসি, তাতে করে কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোম্পানিটির মোট ইকুইটি রয়েছে ২৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। এখন এই কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেতে হলে পুঁজিবাজারে ন্যূনতম ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে।
২০২০ সালের শুরুতে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে আইডিআরএকে নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু কোম্পানিগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি ও তালিকাভুক্তিতে ন্যূনতম মূলধন উত্তোলনের শর্ত এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে আইডিআরএ থেকে বীমা কোম্পানিগুলোকে মূলধন উত্তোলনের শর্ত শিথিল করতে এসইসিকে অনুরোধ জানায়। মূলধন উত্তোলনে ছাড় দিলেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থাকার শর্ত জুড়ে দিয়েছে এসইসি।
বর্তমানে তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা বীমা কোম্পানি রয়েছে, তার অধিকাংশই হচ্ছে জীবন বীমা কোম্পানি। এগুলো হচ্ছে বায়রা, গোল্ডেন, হোমল্যান্ড, সানফ্লাওয়ার, বেস্ট, চার্টার্ড, এনআরবি গ্লোবাল, প্রোটেকটিভ ইসলামী, আলফা ইসলামী, ডায়মন্ড, গার্ডিয়ান, যমুনা, সোনালী, জেনিথ ইসলামী, মার্কেন্টাইল ইসলামী, স্বদেশ, ট্রাস্ট ইসলামী ও এলআইসি বাংলাদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এ ছাড়া তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো হচ্ছে মেঘনা, সাউথ এশিয়া, ইসলামী কমার্শিয়াল, ইউনিয়ন, সেনাকল্যাণ ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।