ভিন্নধারার সিনেমার প্রখ্যাত ভারতীয় পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’ নির্মাণ করছেন, এ কথা সবাই জানে। এ মাসেই মুম্বাইয়ে শুরু হবে শ্যুটিং। তার আগে দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে স্ক্রিপ্ট আর কাস্টিংয়ের কাজ। এ সিনেমার কাস্টিং বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে তারকাবহুল। প্রতিটি চরিত্রে বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী কাজ করবেন। চরিত্র অনুসারে প্রস্তুত হতে তারা প্রত্যেকে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা- যারা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তাকে, সেই দুজন অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার পছন্দ-অপছন্দ, ভালোলাগা-মন্দলাগা, চাওয়া-পাওয়া এই সিনেমায় থাকবে না তা কী করে হয়! শিল্পীরা এতদিন বঙ্গবন্ধু পরিবারের এই দুই সদস্যের দেখা পাননি। কিন্তু শ্যুটিং শুরুর আগে ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় কাটালেন তারা। মেলে ধরলেন স্মৃতির ভান্ডার। গত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য মনোনীত প্রধান ২০ চরিত্রের শিল্পীরা গণভবনে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরিফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, প্রার্থনা ফারদীন দিঘী, নুসরাত ফারিয়া, ফেরদৌস আহমেদ, সাবিলা নুর, দিব্য জ্যোতি, সঙ্গীতা সায়রা, দিলারা জামান, রাইসুল আসলাম আসাদ, খায়রুল আলম সবুজ, তৌকীর আহমেদ, চঞ্চল চৌধুরী, সমু চৌধুরী, সায়েম সামাদসহ কয়েকজন। প্রধানমন্ত্রী ও শেখ রেহানা তাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্র অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর পরিণত বয়সের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলবেন আরেফিন শুভ। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কথা বলেননি, একজন কন্যা হিসেবে কথা বলেছেন। বাবার ব্যক্তিগত অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তার রসিকতা, ব্যক্তিত্ব, আন্তরিকতা, শিশুসুলভ সরলতায় মুগ্ধ হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাটানো সাড়ে ৪ ঘণ্টা ছিল জীবনের সেরা প্রাপ্তি।’ শুভ আরও জানান, আগামী ১৯ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে যাবেন চলচ্চিত্রের বেশ কয়েকজন। ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে চরিত্র, সংলাপ, বডি ল্যাংগুয়েজ ও কণ্ঠের ওপর কর্মশালা। ২৫ তারিখ থেকে শ্যুটিং শুরু হবে। ফেব্রুয়ারিতে মুম্বাই যাবেন আরও কয়েকজন। আড়াই মাস চলবে কাজ।
বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কিশোরী বয়সের চরিত্রে অভিনয় করবেন দীঘি আর পরিণত বয়সের চরিত্রে তিশা। দিঘী বলেন, ‘‘গতকাল এফডিসি থেকে আমি গণভবনে যাই। সাড়ে ৪ ঘণ্টা ছিলাম। সে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী ও শেখ রেহানা বলেছেন প্রত্যেকে যার যার চরিত্রের জন্য পারফেক্ট। শুধু তাই নয়, আমাদের এক একজনকে দেখিয়ে দেখিয়ে তারা বলছিলেন তুমি এই চরিত্র করছ, তুমি ওই চরিত্র করছ! আমরা প্রত্যেকে তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছি। তারা আমাকে বলেছেন, ‘তুমি যে চরিত্রটি করছ অর্থাৎ আমাদের মায়ের ছোটবেলা, সে সময় মাকে তো আমরাও দেখিনি।’ তবে তার মা কেমন ছিলেন সে কথা বুঝিয়ে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার মা ছিলেন খুবই দৃঢ়চেতা, কিন্তু তা সেভাবে প্রকাশ করতেন না। এক ধরনের ব্যক্তিত্ব ছিল। আশা করি এই বিষয়গুলো তোমার চরিত্রে উঠে আসবে।’’ তিশা বলেন, ‘পুরো আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী আর শেখ রেহানা তার মায়ের কথাই বেশি বলছিলেন। আমি সেই চরিত্রটি করছি। এটা আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম অর্জন। তারা দুই বোন বলেছেন, আমার মা সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে বাবাকে শক্তি জুগিয়েছেন। আমাদের মানুষ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মমতাময়ী মা ও একজন রাজনীতিবিদের সহধর্মিণী।’
দিলারা জামান অভিনয় করবেন বঙ্গবন্ধুর মায়ের পরিণত বয়সের চরিত্রে। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম করোনার সময় আমাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আর শেখ রেহানা ভার্চুয়ালি মিটিং করবেন। কিন্তু তেমন হয়নি, আমাদের থেকে অল্প একটু দূরেই বসেছিলেন দুজন। আমাকে দেখেই রেহানা বলে উঠলেন, আমাদের দাদিকে পেয়ে গেছি। শুধু তাই নয়, তিনি অকপটে জানালেন, আমি আপনার ভক্ত। সেই কত বছর আগের অয়োময় নাটকে আমার সংলাপ হুবহু বলে শোনালেন, বিষয়টি ভীষণ অবাক করেছে। এত দীর্ঘ সময় যত্ন নিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। যে যা প্রশ্ন করেছে, তার উত্তর দিয়েছেন দুই বোন।’ দিলারা জামান আরও বলেন, ‘প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্মৃতি তা তিনি মেলে ধরেছেন। তার দাদি মাখন দিয়ে ভাত মেখে খাওয়াতেন সে কথা বলেছেন। এও বলেছেন দাদি ছিলেন খুব কড়া স্বভাবের। বাবাকে শাসন করতেন। আমি তার কথা মতোই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব।’
এ ছবিতে শেখ হাসিনার চরিত্রে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া, বঙ্গবন্ধুর তরুণ বয়সের চরিত্রে দিব্য জ্যোতি, বঙ্গবন্ধুর বাবার তরুণ বয়সের চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী, আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ, তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে চিত্রনায়ক ফেরদৌস, এ কে ফজলুল হকের চরিত্রে শহীদুল আলম সাচ্চু, সৈয়দ নজরুল ইসলাম চরিত্রে সায়েম সামাদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রে তৌকীর আহমেদ, এম কামরুজ্জামান চরিত্রে সমু চৌধুরী, খন্দকার মোশতাক আহমেদের চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু, অতিথি চরিত্রে সিয়াম আহমেদসহ অনেকে অভিনয় করবেন। চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘আমি এখনই এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না। কারণ আমি কথা বলার জন্য এখনো অনুমতি পাইনি।’