ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস করেন। দেড় বছর পর গত মাসে দেশে ফিরেছেন তিনি। গত সপ্তাহ থেকে অভিনয়ও শুরু করেছেন। এসব নিয়ে কথা বলেছেন তিনি
দেশে ফিরে...
করোনা মহামারী হোক আর যাই হোক, দেশ তো দেশই। দেশে ফিরলে অবশ্যই ভালো লাগে। তা ছাড়া আমেরিকায় করোনার তাণ্ডব চলছে। রীতিমতো বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সেখানে। সেই তুলনায় দেশে করোনার ব্যাপকতা তেমন দেখছি না। তাই অনেক স্বস্তিও লাগছে। এমনিতেই অনেক দিন দেশে আসা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই মূলত এসেছি। তবে এ অবসর সময়ের মধ্যে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করব। মাসখানেক পর আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।
নতুন নাটক...
চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘মন কেমনের দিন’ নামে একটি খণ্ডনাটকে কাজ করেছি। গল্পটা বেশ সুন্দর। এ নাটকের মাধ্যমে পাঁচ বছর পর আনিসুর রহমান মিলনের সঙ্গে অভিনয় করেছি। আরও তিনটি নাটকে অভিনয় করার পরিকল্পনা আছে। এগুলো পরিচালনা করবেন এস এম শাহীন ও চয়নিকা চৌধুরী। নাটকগুলোর গল্প আমার হাতে এসেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন নির্মাতা অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন; কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে সেগুলো ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। আমি তো অনেকটা ঘুরতেই দেশে এসেছি। তাই কিছুটা সময় নিজের জন্যও রাখতে হচ্ছে।
নাটকের অবস্থা...
আমি দেশে না থাকলেও নিয়মিতই টিভি নাটক দেখি। অল্পসংখ্যক নাটক ছাড়া বেশির ভাগই গতানুগতিক। প্রচারমাধ্যমের সংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সেভাবে ভালো নাটক নির্মাণ বাড়েনি। তা ছাড়া সবকিছুর দাম বাড়লেও নাটকের দাম কমেছে। এটি শিল্প বিকাশের অন্তরায়। সরকারকে এ সেক্টরের দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। নাট্যাঙ্গনের নেতাদের নাটকের উন্নতির জন্য আরও গভীর মনোযোগ দিতে হবে।
অনুশোচনা...
ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলাম। এ নিয়ে কিছুটা অনুশোচনা তো হয়ই। আমার স্বামী আমেরিকায় সরকারি চাকরি করেন। তাই সবকিছু ছেড়ে সেখানে যাই। এরই মধ্যে আমার দুটি সন্তানও হয়েছে। ওরা বড় হচ্ছে, শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছে। তা ছাড়া আমেরিকার জীবন মেশিনের মতো। অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় কাজ নিয়ে। মাঝেমধ্যে তাই দেশে এসে পরিবার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে যাই। এই ফাঁকে কিছু নাটকে অভিনয়ও করি।