দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির অনুমতির পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত শনিবার থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।
কিন্তু আমদানি করা চালের শুল্কায়ন মূল্য ও কম শুল্কে চাল ছাড় দেওয়ার আদেশের কপি নিয়ে জটিলতার কারণে বন্দর থেকে চাল খালাস করতে পারেনি আমদানিকারকরা। বন্দরে আটকা পড়েছে ১ হাজার ২৬৯ টন আমদানি করা চাল।
বাড়তি শুল্ক আরোপ থাকায় দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকার পর গত শনিবার বন্দর দিয়ে প্রথম চালান হিসেবে নওগাঁর জগদীশ চন্দ্র রায় নামের আমদানিকারকের ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়।
রবিবার বন্দর দিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির হেনা এন্টারপ্রাইজ নামের আমদানিকারকের ২০টি ট্রাকে ৮২৮টন চাল আমদানি হয়েছে।
সোমবার বন্দর দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পূর্বের দিনের দুই আমদানিকারকের ৮ট্রাকে ৩২৯টন চাল আমদানি হয়।
ভারত থেকে চাল নিয়ে ট্রাক চালক সুশান্ত কুমার বলেন, গত শনিবার আমরা ভারত থেকে চাল নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে এসেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের চাল খালাস হয়নি। এর ওপর সঙ্গে যে টাকা নিয়ে আসছিলাম তাও শেষ হয়ে গেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ বাইরে বের হতেও দিচ্ছে না সব মিলিয়ে খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি।
চালের আমদানিকারকের মনোনীত সিআ¨ন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর দুজন আমদানিকারক মেসার্স জগদীশ চন্দ্র রায় ও হেনা এন্টারপ্রাইজ গত শনিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ২৩টি ট্রাকে ৯৪০টন চাল আমদানি করেন। আজও বন্দর দিয়ে ওই দুজন আমদানিকারকের আরও ৮টি ট্রাকে ৩২৯টন চাল বন্দরে প্রবেশ করেছে। ভারত থেকে প্রতি টন চাল ৩৫৬মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে। তবে চাল আমদানিতে সরকার যে ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক থেকে দুই দফা কমিয়ে ২৫ ভাগ করে ১৫ভাগ করলেও কাস্টমসের সার্ভারে চালের আমদানি শুল্ক কমার সংযুক্ত না হওয়ায় শনিবার থেকে রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট সম্ভব হয়নি। ৩টার পরে কাস্টমসের সার্ভারে চালের শুল্কহার কমার বিষয়টি সংযুক্ত করা হয় এর পরে আমদানি করা চালের বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করি। কিন্তু স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চাল ৩৫৬ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হলেও ৪শ ১০/২০ মার্কিন মূল্যে শুল্কায়ন করতে চায় এতে করে আমাদের বাড়তি শুল্ক দিতে হবে। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে আদেশের কপি দেওয়া হয়েছে সেখানে নাকি যুগ্ম সচিবের স্বাক্ষর লাগবে যার কারণে আমদানি করা চাল ছাড় দিচ্ছেন না কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এতে করে গত তিন দিন ধরে আমদানি করা চালগুলো বন্দরে আটকা পড়ে আছে যার কারণে আমাদের বাড়তি মাশুল গুনতে হবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর গত শনিবার বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। গত শনিবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৩১টি ট্রাকে ১২৬৯টন চাল আমদানি হয়েছে। কিন্তু কাস্টমসের শুল্কায়ন জটিলতার কারণে তারা বন্দর থেকে চালগুলো খালাস নিতে পারছে না। বিষয়টি সুরাহা হলে তারা চালগুলি খালাস করে নিবে, তাদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালগুলো খালাস করে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।