পুঁজিবাজারেও ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দেওয়া হলো

গত এপ্রিলে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ব্যাংকঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার ব্যাংকের পর পুঁজিবাজারেও শেয়ার ক্রয়ে দেওয়া ঋণের সুদহার বেঁধে দিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে পুঁজিবাজারের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে মার্জিন ঋণের বিপরীতে ১২ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। গতকাল কমিশনের নিয়মিত সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনার বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দেওয়া হলো। এসইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে ঋণ নিয়ে যেসব বিনিয়োগকারী বাজারে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের ব্যয় কমবে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বেশি সুদে ঋণ নেওয়ায় মার্জিন ঋণদাতা কিছু প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বিপাকে পড়তে পারে বলে জানা গেছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে।  

গতকাল কমিশন সভা শেষে এসইসি জানিয়েছে, এখন থেকে পুঁজিবাজারের ঋণদাতা স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের বিপরীতে ১২ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো যে সুদে টাকা ধার নেবে, তার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ বাড়তি সুদ যোগ করতে পারবে মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে। তবে মার্জিন ঋণের এ সুদহার কোনোভাবেই ১২ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে ব্যাংকঋণের সুদহার একক অঙ্কে নামিয়ে আনার পর থেকে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণের সুদহার কমানোর দাবি করে আসছিলেন।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেন, সেটি মার্জিন ঋণ হিসেবে পরিচিত। ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক নিজস্ব তহবিলের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ দিয়ে থাকে। বর্তমানে শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজসহ অনেক হাউজ মার্জিন ঋণে ১৪  েেক ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। মার্জিন ঋণের বিধান অনুযায়ী একজন বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব মূলধনের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ (১:০.৭৫) হারে মার্জিন ঋণ নিতে পারেন।

বর্তমানে শতাধিক ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ দিচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। অবশ্য গ্রাহকদের দেওয়া এই মার্জিন ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশই অনাদায়ী। ২০১০ সালের দরপতনের কারণে মার্জিন ঋণে থাকা গ্রাহকের পোর্টফোলিও ফোর্সড সেলের (বাধ্যতামূলক বিক্রি) আওতায় থাকলেও সরকার এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপে গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর থেকে শেয়ারদর ব্যাপক কমায় বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের বিও হিসাবে মূলধনী লোকসান তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর পরও মার্জিন ঋণের ওই সংকট থেকে বের হতে পারেনি পুঁজিবাজার। 

গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সের ওপর নির্ভর করে পুরনো মার্জিন ঋণ নীতিমালায় পরিবর্তন আনে এসইসি। সূচক কম থাকলে বেশি ঋণ এবং সূচক বেশি থাকলে কম ঋণ এমন পদ্ধতি আরোপ করে এসইসি। নতুন নির্দেশনায় মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ হার ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ৭৫ করা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহকের নিজস্ব ১০০ টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪০০০ বা তার নিচে থাকলে গ্রাহককে ১০০ টাকার বিপরীতে ৭৫ টাকা ঋণ দিতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।

নতুন নির্দেশনায় ৪০০১ থেকে ৭০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচকের ক্ষেত্রে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ৫ হারে এবং ৭০০০ পয়েন্টের ওপরে সূচকের ক্ষেত্রে ১ অনুপাত শূন্য দশমিক ২৫ হারে মার্জিন ঋণ দিতে পারবে বলে বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি চলতি ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

মার্জিন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী যেসব শেয়ারের পিই রেশিও ৪০-এর নিচে রয়েছে, শুধুমাত্র সেসব শেয়ারেই ওই ঋণ দেওয়া যায়।