পার্বতীপুরে গৃহকর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সাথী (১৩) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার পার্বতীপুর শহরের সবজি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর ওইদিন বিকেলেই মেয়েটিকে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীর স্বজনদের ভাষ্য, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মেয়েটিকে হত্যার চেষ্টা করেন ওই এলাকার সদরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ওরফে সেলি (৩২)।

সাথীর মা মিনা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মেয়েটির ওপর লোহার রড, ছুন্নি, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সব সময় নির্যাতন চালিয়ে আসত সেলি। মেয়েটিকে একবেলা খাবার দিয়ে দু’বেলা অনাহারে রাখত সে। এমনকি ঘর থেকে বের হতে দিত না। রাতে স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ঘুমাতে দিত তাকে। কোনো সময় মেয়েটিকে দেখতে গেলে দেখা করতে দিত না, আর আমাকে বলত ঘন ঘন দেখতে আসবি না। আমি আমার মেয়ের নির্যাতনের বিচার চাই।’ 

গতকাল দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ৬ নম্বর বিছানায় ব্যথার যন্ত্রণায় ছটফট করছে সাথী। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতবিক্ষত দাগ ও ঘা। মাথায় অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। এলোমেলো কথাবার্তা বলছে সে। তার মাথার চুল এলোমেলো করে ছোট করে কেটে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন অনাহারে থেকে তার শরীর হাড্ডিসার হয়ে গেছে।

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহেল মাফী বলেন, ‘সাথী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তার শরীর ও মাথায় অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’ 

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’