ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া রুহুল আমিন এবং মকসুদ আলমের কারামুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কারাবন্দি রুহুল আমিনের ছবি পুনঃস্থাপন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের মৃত্যুর পর এর আগে দলীয় এই কার্যালয় থেকে গোপনে রুহুল আমিনের ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় নেতাকর্মীরা রুহুল আমিনের মুক্তি কামনায় মিলাদ মাহফিলের পর তার ছবি পুনঃস্থাপন করে।
রুহুল আমিনের কারামুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলছেন ওই কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বাবুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক বিটু, মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান বাবু, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ভুট্টো, মঙ্গলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বাদল, জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন আরিফ ভূঞা, চরচান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম মানিক, বগাদানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন বাবুল, আমিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরু মেম্বার, ইউপি সদস্য গেদু মিয়া ভূঞা, দীন মোহাম্মদ, মতিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন টিপু ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় গেলে নুসরাত জাহান রাফিকে মুখোশ পরা ৪-৫ জন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় একই বছরের ১৯ এপ্রিল সোনাগাজী উপজেলার তাকিয়া রোড এলাকার নিজ বাসভবন থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই বছরের ২৪ অক্টোবর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জনের ফাঁসির রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি হাইকোর্টের আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বর্তমানে ফেনী, কুমিল্লা ও কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।