সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকার সালেহপুর সেতুর গার্ডারে ফাটল দেখা দেওয়ায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। একই সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার সেতুটির একটি লেন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘœ ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সড়কটি ব্যবহারকারীরা।
জানা গেছে, সেতুর গার্ডারের ফাটল নজরে আসার পর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গতকাল সকাল ৬টা থেকে এক লেন বন্ধ করে (সাভার থেকে ঢাকাগামী) সংস্কারের কাজ শুরু করে ঢাকা সড়ক বিভাগ। এক লেন দিয়ে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কটিতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত বুধবার রাতে সেতুর ফাটল ধরা পড়ার পর থেকে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে সড়ক ব্যবহারকারী অসংখ্য মানুষ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান বলেন, দুই লেনের সালেহপুর সেতুর সাভার থেকে ঢাকাগামী লেনের অংশের গার্ডারে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সেতুটি দ্রুত মেরামত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসী জানায়, সালেহপুর সেতুর একটি অংশ দেবে গেছে। সেতুর নিচের আটটি বিমের মধ্যে চারটিতে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ লেনের অংশটিতে যান চলাচল বন্ধ রাখায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তাই যানজট এড়াতে সেতুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই পথ পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সওজ-এর ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, ‘সালেহপুরে দুই লেনের দুটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে সড়কের পূর্বপাশের সেতুটির (সাভার থেকে ঢাকাগামী লেন) এক পাশের গার্ডারে (বিম) ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেতুটির এক পাশে অনেকখানি দেবেও গেছে। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি সাভার ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আমরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মেরামতের কাজ শুরু করেছি। কাজ শেষ হতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’
ব্যস্ততম এ সেতুটির একটি লেন বন্ধ থাকায় মহাসড়কের তুরাগ এলাকা থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মহাসড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মারুফ হাসান বলেন, ‘সেতুটির যে অংশের গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেটি মূলত সত্তরের দশকে নির্মিত, যখন এই মহাসড়কটি দুই লেনের ছিল। অন্য অংশটি মহাসড়কটি দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার পর নির্মাণ করা হয়েছিল। সাধারণত এ জাতীয় কোনো সেতু নির্মাণের পর তার আয়ুষ্কাল ৫০ বছর ধরা হয়। আমরা এমনিতেও সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তবে কিছু জটিলতার কারণে কাজটি এখনো শুরু করা যায়নি।’
এই প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা আমাদের প্রকৌশলী ও পরামর্শকদের নিয়ে সেতুটি পরিদর্শন শেষে ঝুঁকিপূর্ণ অংশের লেনটি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে নোটিস টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করছি, সংস্কারের মাধ্যমে অতিদ্রুত সেতুর ওই লেনটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হবে।’
ঢাকা জেলা পুলিশের (উত্তর) পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ফাটলটি সম্পর্কে আগেই জানতে পেরেছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মূলত বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিল। পরে আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে সেতুটির একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে সার্বক্ষণিক পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাসহ পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’