পালিয়ে বিয়ে করায় ধর্ষণ মামলা

আদালতের নির্দেশে মেয়েসহ স্বামীর জিম্মায় কিশোরী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের এক কিশোরী প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেন স্থানীয় কামাল আহমেদ নামে এক যুবককে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেন মেয়ের মা। ছয় মাস পর কামালকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা কিশোরী মা হন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত কামালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুসহ মাকে স্বামীর জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তারেক আজিজ ও সজল আহমেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

কিশোরীর মতামত নিয়েই আদালত এ আদেশ দিয়েছে জানিয়ে কামালের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদপুরের সেগুফতা ইয়াসমিন মেহজাবিন ও কামাল মজুমদার ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের কাবিনে মেয়েটির বয়স দেখানো হয়েছে ১৮ বছর।

এ ঘটনায় ওই বছর ৭ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন মেয়ের মা। মামলায় মেয়ের বয়স দেখানো হয়েছে ১৩ বছর ১১ মাস। যদিও জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ১৭ বছর। আবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেয়েটি তার বয়স ১৬ বছর বলে উল্লেখ করেছেন।

এ মামলায় ২০২০ সালের ২৬ মে ওই মেয়ের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে মেয়েটিকেও তার সঙ্গে নেওয়া হয়। মেয়েটি তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার স্বামীকে চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠায়।

সেদিন মেয়েকে তার মা নিজের জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। এতে মেয়ে রাজি না হওয়ায় আদালত তাকে সেফ কাস্টডিতে (গাজীপুরের শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে) গাজীপুর পাঠিয়ে দেয়।

পরে ট্রাইব্যুনালে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে মেয়ের স্বামী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে তাকে ২০ অক্টোবর জামিন দেয় হাইকোর্ট। এ অবস্থায় ২৭ অক্টোবর গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ওই কিশোরী সন্তান জন্ম দেন।

এদিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিজের জিম্মায় পেতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। এরপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর সেই আবেদন নামঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

শুনানি নিয়ে গাজীপুরের শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালিকা) তত্ত্বাবধায়ককে কিশোরী ও তাদের সন্তানকে আদালতে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এ আদেশ অনুসারে গতকাল কিশোরী ও নবজাতক সন্তানকে হাজির করা হয়। তখন আদালত কিশোরী ও তার স্বামীর মতামত নেয়।

শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মেয়েকে তার স্বামীর জিম্মায় দেওয়ার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চাঁদপুরকে নির্দেশ দেয়।

শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ চাঁদপুরের ট্রাইব্যুনালে যাবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল আদেশটি শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রকে পাঠাবে। তখন মেয়েটি তার স্বামীর জিম্মায় যেতে পারবেন।