চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রচারে দলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর টাইগারপাসের বটতলী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে গণসংযোগকালে চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ডা. শাহাদাতের অভিযোগ, বিকেলে হালিশহর এলাকায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে রামপুর ওয়ার্ডের ঈদগা রূপসা বেকারির সামনে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে ১৪নং লালখানবাজার ওয়ার্ডে রেজাউল করিম চৌধুরীর গণসংযোগ ছিল। তিনি আসার আগেই এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলাল ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম অনুসারীদের নিয়ে জড়ো হন। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এতে অন্তত ১১ জন আহত হন।
এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিদারুল আলম মাসুম পরিকল্পিতভাবে রেজাউল ভাইয়ের প্রচারণায় হামলা করেছে। মূলত আমি কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে মাসুম আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। আমার ওয়ার্ডে রেজাউল ভাইকে বরণ করতে নারী সমর্থকসহ শত শত নেতাকর্মী ফুলের ঢালা নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে মাসুমের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের কর্মী মোজাম্মেল হোসেন সোহাগ, মাহমুদ, শাহীন, কোহিনুর, রুনা, টুম্পা আহত হন। তাদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দিদারুল আলম মাসুম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মী নিয়ে রেজাউল ভাইয়ের প্রচারণায় গিয়েছিলাম। সেখানে বেলালের লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে নওশাদ, মঈনুদ্দিন, জাবেদ, মাহুমুদুর রহমান, মরিয়মসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বেলালের স্বভাব মিথ্যা বলা। তারা হামলা করে আমাদের ওপর উল্টো দোষ দিচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টাইগারপাসের বটতলী এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি রোধে লালখানবাজার ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
এদিকে গাড়িতে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শনিবার বিকেলে নগরীর ২৫নং রামপুর ওয়ার্ডে ঈদগা রূপসা বেকারির সামনে দিয়ে গণসংযোগ করে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং নেতাকর্মীদের আহত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মধ্যম রামপুর বড়পুকুর এলাকায় সাইফুর রহমান পলাশের নেতৃত্বে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের পোস্টার লাগানোর সময় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’ নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে এসব ঘটনা জানানোর পরও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।
ডা. শাহাদাতের গাড়িতে হামলার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে হালিশহর থানার ওসির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল মামুন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন।