১০ মাস পর খুলল দিল্লির স্কুল

ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কুলগুলো গতকাল সোমবার থেকে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ১০ মাস পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

সিবিএসই (সেন্ট্রাল বোর্ড অব স্কুল সেকেন্ডারি এডুকেশন) বোর্ড পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রাক-বোর্ড পরীক্ষা ও অভ্যন্তরীণ অ্যাসাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করার জন্য রাজ্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজ্যও স্কুল খুলে দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার খোলা হবে রাজস্থানের স্কুলগুলো।

শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার জন্য অভিভাবকদের লিখিত সম্মতিপত্র বাধ্য করেছে কর্র্তৃপক্ষ। যেসব শিক্ষার্থীর মা-বাবার দেওয়া সম্মতিপত্র নেই, গতকাল তাদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে অবশ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় দিল্লির স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে সংক্রমণের হার যেসব এলাকায় বেশি, সেখানকার স্কুল এখনো খোলা হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে এসব স্কুলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।

প্রায় ১০ মাস পর শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসায় রাজ্যর উপমুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া অভিনন্দন জানিয়েছেন। গতকাল তিনি টুইটে লেখেন, ‘দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা। ১০ মাস পরে আজ (গতকাল) তারা বিদ্যালয়ে এসেছে। যদিও সবাই নিয়মের কারণে আসতে পারছে না; তবু আমি আনন্দিত যে আজ স্কুলগুলো আবার খুলেছে।’

যেসব স্কুল খোলা হয়েছে, তাদের রাজ্য সরকারের দেওয়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল পদ্ধতি (এসওপি) মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরও নজর দিতে হবে এসব বিষয়ে। দিল্লি সরকারের দেওয়া এসওপি অনুযায়ী, স্কুলগুলো শুধু প্রয়োজনীয় ক্লাস এবং অনুশীলনের জন্য খোলা হয়েছে। অ্যাসেম্বলি ও অতিরিক্ত পাঠ্যক্রম পড়ানো যাবে না। ছাত্রছাত্রীরা যাতে খাবার বা অন্যান্য জিনিসের বিনিময় না করে, সেদিকে শিক্ষকেরা নজর রাখছেন। ক্লাসের সময় ছয় ঘণ্টা থেকে কমিয়ে দুই ঘণ্টা করা হয়েছে। ৫০ জনের বেশি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারবে না। ল্যাবে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি থাকতে পারবে না।

কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা কর্মচারী, যিনি করোনারভাইরাসে আক্রান্ত, স্কুল চত্বরে প্রবেশের অনুমতি পাননি। যে কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের করোনার লক্ষণ রয়েছে, তারাও স্কুলে ঢুকতে পারছেন না। বিদ্যালয়ের গেটে থার্মাল স্ক্যানার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুলের মূল ফটকটি ক্লাসের আগেই খুলে দেওয়া হয়, যাতে সেখানে ভিড় না হয়। স্কুলের প্রধান গেট, ল্যাব, ক্লাস, জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানসহ ক্যাম্পাসের সব স্থানে স্যানিটাইজার রাখা আছে।

স্কুলে প্রত্যেক সদস্যকে অবশ্যই স্কুল প্রাঙ্গণে উপযুক্তভাবে মাস্ক পরতে হবে। স্কুল পুনরায় চালু হওয়ার পরও অনলাইন ক্লাস অব্যাহত থাকবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দশম শ্রেণির প্রাক-বোর্ড পরীক্ষা আগামী ২০ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল এবং দ্বাদশ শ্রেণির এ পরীক্ষা হবে ১ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে।