পরিবহনকর্মী সেজে পিকআপে যাত্রী তুলে ডাকাতি

ভাড়া করা পিকআপ নিয়ে রাতের বেলায় রাস্তায় বের হয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্বল্প আয়ের ব্যবসায়ীরাই যাদের মূল টার্গেট। এরপর পরিবহনকর্মী সেজে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাস্তা থেকে তাদের পিকআপে তুলে নেয় চক্রটি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার আগেই টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয় চক্রটির সদস্যরা। এরপর সুযোগ বুঝে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এতে টাকা-পয়সা খোয়ানোর পাশাপাশি হতাহতের শিকার হয়েছেন অনেকেই। ডাকাতি-ছিনতাইয়ে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চক্রটির হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো সজল, মুসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, ছুরি, লুণ্ঠিত ৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর চক্রটির অপরাধ কর্মকা-ের বিষয়ে জানাতে গতকাল সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

এ সময় তিনি বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণখানের বাসা থেকে কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে বের হন আপন মিয়া ও নজরুল ইসলাম নামে দুই সবজি ব্যবসায়ী। বিমানবন্দর সড়কের কাওলা ফুটওভার ব্রিজের পূর্ব পাশে তারা বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন ডাকাতরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে এসে কারওয়ান বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ওই দুজনকে তুলে নেয়। দুই ব্যবসায়ী পিকআপে ওঠার পরপরই যাত্রীবেশে বসে থাকা ডাকাতরা তাদের টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এরপর তাদের চলন্ত পিকআপ ভ্যান থেকে ফেলে দেওয়া  হয়। এতে আপন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়। এরপর থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে ডিবি। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে ডিবির গুলশান জোনাল টিম।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তাররা আব্দুল্লাহপুর থেকে কারওয়ান বাজার, রামপুরা থেকে যাত্রাবাড়ী ও যাত্রাবাড়ী থেকে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় পিকআপ নিয়ে ডাকাতি করে। পিকআপের সামনের অংশে তিনজন বসে এবং বাকিরা যাত্রীবেশে পিকআপের পেছনে থাকে। ঢাকার যেসব এলাকায় মাছ, ফলমূল ও সবজির পাইকারি আড়ত বসে সেখানে মালপত্র কিনতে যাওয়া ব্যক্তিদের তারা টার্গেট করে। ঘটনার দিন তারা দুই ব্যবসায়ীকে কারওয়ান বাজারে নেওয়ার উদ্দেশে সুকৌশলে পিকআপ ভ্যানে তোলে। এরপর মুসা ও রফিক তাদের বুকে ছুরি ধরে। তখন পিকআপের সামনে বসা সজল পেছনে চলে আসে এবং ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা প্রথমে আপন ও কিছুক্ষণ পর নজরুলকে ধাক্কা দিয়ে পিকআপ থেকে ফেলে দেয়।

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী আপন নিহতের ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিমানবন্দর সড়কে চলন্ত একটি পিকআপ থেকে একজনকে ফেলে দেওয়া হয়। মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি সড়কেই পড়ে থাকেন। তার পাশ দিয়ে অন্য যানবাহন চলে গেলেও কেউ তাকে উদ্ধার করেনি।