করোনা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের জন্য আলোচিত জেকেজি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাময়িক বহিষ্কৃত ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী এবং তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেবেন বলে একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। আমরা অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছি। প্রতিবেদনে অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সবকিছু শেষ করতে মনে হয় কিছুটা সময় লাগবে।’
দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, ডা. সাবরিনা ও আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং করোনা সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপপরিচালক মোছা. সেলিনা আখতার মনি। তিনি এ দম্পতির আয়কর নথি পর্যালোচনা করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক, সব তফসিলি ব্যাংক, বিএফআইইউ, রাজস্ব বোর্ড, সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। সেখান থেকে জবাব আসার পর অনুসন্ধান কর্মকর্তা প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনে জমা দেবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনুসন্ধানে দুদক ডা. সাবরিনার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকার তথ্য পেয়েছে। এরপর দ্বৈত ভোটার হওয়ার বিষয় লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। চিঠির তথ্যানুযায়ী, ডা. সাবরিনা তথ্য জালিয়াতি করে দুই এলাকায় ভোটার হন ও এনআইডি সংগ্রহ করেন। সচল দুটি এনআইডিতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর একটিতে জন্ম ২ ডিসেম্বর ১৯৭৮; অন্যটিতে ২ ডিসেম্বর ১৯৮৩। এক্ষেত্রে ৫ বছর কম-বেশি দেখানো হয়েছে। এনআইডিগুলোয় স্বামীর নামও ভিন্ন। একাধিক স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। পরে ইসি তার দুটি পরিচয়পত্রই স্থগিত করে।
ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে রাজধানীর বাড্ডা থানায় জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইনে গত ৩১ আগস্ট মামলা করেন গুলশান থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মমিন মিয়া। এ মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরিতে (চিকিৎসক, সার্জারি বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট) বহাল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর সহযোগিতায় ডা. সাবরিনা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ১৫ হাজার ৪৬০ ভুয়া সনদ প্রস্তুতের পর তা সরবরাহ করেন। জালিয়াতির মাধ্যমে এ দম্পতি ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন।
করোনা সনদ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১২ জুলাই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ডা. সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ডা. সাবরিনা ও আরিফ চৌধুরী কারাগারে আছেন।