দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বেড়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৮২৯ জনের। আগের দিন রবিবার প্রায় কাছাকাছি পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৪৭৩ জন। গতকাল রোগী শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় চারজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। আগের দিন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে, যা ছিল গত বছর ৪ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৮ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছে। আগের দিন মারা গিয়েছিল ২০ জন। প্রতিদিন ঢাকা বিভাগে বেশিসংখ্যক ব্যক্তির মৃত্যু হলেও গতকাল চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বিভাগে এদিন আটজন এবং ঢাকা বিভাগে সাতজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এদিন মৃতদের ১৪ জনই ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩২৪তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২০০ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৮টি জিন-এক্সপার্ট, ৫৬টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৬টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৪ হাজার ৮১০ জনের নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৪ হাজার ৮২৯ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫৬৬ রোগী সুস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৩২ হাজার ৪০১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৮ হাজার ৪১ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৯ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫১ এবং সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৫ ও নারী ৩ জন। ঢাকা বিভাগে ৭, চট্টগ্রামে ৮, রাজশাহীতে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১২, ৫১-৬০ বছরের ২, ৪১-৫০ বছরের ৩ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৯৫ ও নারী ১ হাজার ৯৪৬ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৮০ ও নারী ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭১ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৭৯, খুলনায় ৫৪৬, রাজশাহীতে ৪৬০, রংপুরে ৩৫৫, সিলেটে ৩০১, বরিশালে ২৪১ ও সর্বনিম্ন ১৮৮ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৫১৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১০ হাজার ৬৭১ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৫ হাজার ৪০৯ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩৮১টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৭২৭টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৯৮টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২১৪টিতে।