এখন অনেক পরিণত ইয়াসির

২০১৯ সাল থেকে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ইয়াসির আলি চৌধুরী। চট্টগ্রামের এই টপঅর্ডার গত বছর টেস্ট অভিষেকের খুব কাছে ছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গত ফেব্রুয়ারিতে একমাত্র টেস্টের স্কোয়াডে সুযোগ হয় তার। সেরা একাদশে খেলার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অভিষেক হয়নি। এরপর করোনা মহামারীর শুরু। ১০ মাস পর ক্রিকেট ফেরার প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখা হয়েছে তাকে। ওয়ানডের দলে সুযোগ হয়নি শেষ পর্যন্ত। কিন্তু টেস্ট দলে তার থাকার ভালো সম্ভাবনা আছে। উইন্ডিজের বিপক্ষে ২৯ জানুয়ারি শুরু তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলবেন।

শুধু বিপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার ইয়াসির। তিন নম্বর পজিশনে খেলেন। জাতীয় দলের সঙ্গে থেকে নিজের উন্নতি সম্পর্কে বলেন, ‘গত এক বছরে আমি নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত করতে পেরেছি। আগে এক-দুটা খারাপ ইনিংস খেললে বা খারাপ সময় এলে ভেঙে পড়তাম। কিন্তু এখন সে-রকম হয় না। কারণ আমি শিখেছি যদি চেষ্টা করে যাই তবে অবশ্যই ভালো করা সম্ভব। আর টেকনিক্যালি নিল ম্যাকেঞ্জির কাছ থেকে নিজেকে বেশ শুধরাতে পেরেছি। আমার ব্যাটিংয়ের দু-তিনটা বিষয়ও ঠিক করে দিয়েছেন। আবার জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর আমার ফিটনেসও অনেক উন্নত হয়েছে। এখন নতুন ব্যাটিং কনসালটেন্ট জন লুইসের কাছ থেকে নিজেকে আরও সঠিক করার আশায় আছি।’

প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকার সুবাদে দেশের অভিজ্ঞ চার ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রথমবার ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করলেন ইয়াসির। যখন প্রথম দলে ডাক পান তখন সাকিব নিষেধাজ্ঞায় আর মাহমুদউল্লাহ টেস্টের দলে ছিলেন না। এবার ক্যাম্পে চার জনকে একসঙ্গে পেয়ে নিজের রোমাঞ্চের কথা শোনালেন ইয়াসির, ‘এই ক্যাম্পের শুরু থেকেই অমি খুব রোমঞ্চিত ছিলাম। কারণ সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদ ভাইদের একসঙ্গে পেয়েছি এখানে। আগে কখনো তাদের সঙ্গে এক ক্যাম্পে থেকে অনুশীলন করতে পারিনি। এটা আমার জন্য খুব রোমাঞ্চের জায়গা যে ওয়ানডে ক্যাম্প থেকে দেশের সেরা অভিজ্ঞদের সঙ্গে এক ড্রেসিংরুম শেয়ার করছি। আবার এই টেস্টের ক্যাম্পেও তামিম-সাকিব-মুশফিক ভাইকে পাচ্ছি। তাদের ছোট থেকেই খেলতে দেখে বড় হয়েছি। তাদের পাশে খেলার অভিজ্ঞতা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

শুরু থেকেই শেখার ইচ্ছাটা প্রবল ইয়াসিরের। সেই ইচ্ছাশক্তিতেই নিজেকে পরিণত করেছেন। ম্যাকেঞ্জির কাছ থেকে শিখেছেন। এবার প্রথম অনুশীলন ক্যাম্পে অনুজদের কাছ থেকে কী শিখলেন সেই প্রশ্নের উত্তরে ইয়াসির জানান, ‘তারা এই পর্যায়ে এসেও নিজেদের ফিটনেস যেভাবে ঠিক রাখছেন সেটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে মুশফিক ভাই যেভাবে নিজেকে তৈরি রাখেন সেটা আমরা সবাই জানি। তো এই সবদিক নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়। আমি জানতে চাই কীভাবে তারা নিজেদের তৈরি রাখছেন, কারণ এখন যে প্রতিযোগিতা, দলে থাকতে হলে নিজেকে সবদিক থেকে তৈরি না রাখলে খেলাটা কঠিন হয়ে যায়। তাই আমি ভালো দিকগুলো খুঁজে তাদের কাছ থেকে তা শেখার চেষ্টা করি।’

ভবিষ্যতে জাতীয় দলে চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হতে চান ইয়াসির। বাংলাদেশ দলে চট্টগ্রাম ক্রিকেটারদের যে ঐতিহ্য তা ফেরাতে চান। সাম্প্রতিক সাইফউদ্দিন, নাঈম হাসানদের সময়ে চট্টগ্রাম থেকে উঠে আসা ইয়াসিরের জন্য দেশ ও নিজ জেলার জন্য গৌরবের, ‘নাফিস-আফতাব ভাইয়ের পর চট্টগ্রাম থেকে অনেকদিন ধরেই ক্রিকেটার উঠে আসছিল না। তামিম ভাই ছাড়া কেউ ছিল না। কিন্তু এখন আমিসহ যুব দল বা এইচপিতে অনেকেই আছি। এটা চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ভালো দিক। কারণ যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট শুরু করে তখন চট্টগ্রামের অনেকে সেরা একাদশেই খেলত। আমরা আবার উঠে এলে সেটা চট্টগ্রাম শুধু না দেশের ক্রিকেটের জন্যই ভালো হবে।’

গত বছর ঢাকায় টেস্ট অভিষেক না হওয়ায় একদিকে ভালোই হয়েছে ইয়াসিরের জন্য। ২৪ বছর বয়সী এই তরুণ এখন স্বপ্ন দেখছেন হোমগ্রাউন্ড চট্টগ্রামেই টেস্ট অভিষিক্ত হওয়ার। ‘এটা আমার জন্য সত্যি অন্যরকম একটা অনুভূতি। করোনার পর টেস্ট শুরু করছি আমরা চট্টগ্রাম থেকে, যা আমার হোমগ্রাউন্ড। নিজের মাঠে টেস্ট অভিষেক হবে কি না সেটা বলতে পারছি না। কিন্তু নিজের মাঠের টেস্ট দলে থাকলে সেটাই হবে আমার খুশির অনুভূতি।’