মহামারীতেও উত্তরাঞ্চলে এক কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদন

বৈশ্বিক করোনা মহামারীর মধ্যেও গত বছর পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় এক কোটি কেজিরও বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে। এই সময়ে সমতলের ১০টি ও সাত সহস্রাধিক ক্ষুদ্র পরিসরের বাগান থেকে মোট ১ কোটি ৩ লাখ বা ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই বছর চায়ের জাতীয় উৎপাদন হয়েছে ৮৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের সমতলের চা বাগান থেকেই ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ জাতীয় উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও ওই বছর চা উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড এটি।

পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে ১০টি নিবন্ধিত, ১৭টি অনিবন্ধিত ৭ হাজার ৩১০টি ক্ষুদ্র আয়তনের চা বাগানে (নিবন্ধিত ১,৫১০টি) মোট ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। এসব বাগান থেকে ওই বছর ৫ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৬ কেজি সবুজ চা পাতা উত্তোলন করা হয়েছে। যা থেকে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের ১৮টি চলমান চা কারখানায় ১ কোটি ৩ লাখ কেজি চা উৎপন্ন হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় গত ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে চায়ের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে ও ৭ দশমিক ১১ লাখ কেজি চা বেশি উৎপন্ন হয়েছে। 

বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড়ের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, সমতল ভূমিতে চা চাষের জন্য পঞ্চগড় ও এর পাশের জেলাগুলো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। তাই দিনদিন সে সব অঞ্চলে চা চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে চা চাষে চাষিদের আরও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় হাতে-কলমে নানা বিষয়ে কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া পাতার দাম ভালো পাওয়ায় নতুন নতুন চা আবাদিও বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মহামারীর মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় উত্তরবঙ্গের সব চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা বাগান পরিচর্যা ও পাতা তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে ২০২০ সালে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।