১৬ বছরেও শেষ হয়নি কিবরিয়া হত্যার বিচার

১৬ বছরেও শেষ হয়নি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার বিচার কাজ। নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে তদন্ত কাজেই সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে প্রায় ১০ বছর। দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি এতই কচ্ছপ গতিতে চলছে যে, গত এক বছরে সাক্ষ্যগ্রহণের সংখ্যা বাড়েনি একটিও। এতে নিহতের পরিবারে দেখা দিয়েছে হতাশা। সাবেক এ অর্থমন্ত্রীর ছেলে রেজা কিবরিয়া মনে করেন বর্তমান সরকারের আমলে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হবে না।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় কিবরিয়াসহ আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মী নিহত ও ৭০ জন আহত হন। এ ঘটনায় পরে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক বর্তমান হবিগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন দফায় এ মামলার তদন্ত করে সিআইডি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর সিলেট রেঞ্জের সিনিয়র এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে গত ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

সিলেট দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত মামলায় ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায়ও ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর চার্জ গঠন করা হয়। আজ বুধবার (২৭ জানুয়ারি) উভয় মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, এ মামলার মূল আসামিদের বিরুদ্ধে সারা দেশে জঙ্গি হামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন জেলায় মামলা রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন আদালতে হাজির করানোর জন্য এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করতে হয়। এমতাবস্থায় কিবরিয়া হত্যা মামলার ধার্য তারিখে সব সময় আদালতে হাজির সম্ভব হয় না। এ কারণে মামলার বিচার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

সিলেট দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি সরোয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল বলেন, ‘এ মামলার আসামিদের মধ্যে মুফতি আব্দুল হান্নান, শরীফ সাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে। এদিকে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরীসহ ৯ জন আসামি পলাতক। এছাড়া এ মামলার আসামি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফ চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ জামিনে আছেন ৯ জন।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছেলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিচার নয় আমরা ন্যায়বিচার চাই। একটি সীমিত তদন্তের ভিত্তিতে একটি মিথ্যা চার্জশিটকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করছি। আওয়ামী লীগের আমলে ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা দেখছি না। আমার মতো দেশে আরও শত শত পরিবার অপেক্ষায় আছে যদি কোনো সময় সুবিচারের পরিস্থিতি হয়। আইনমন্ত্রী ও স্বারষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি তদন্তে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

বাবার লাশ হবিগঞ্জে না আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়ীএর ধারণা তখন ছিল না। আমি চাইনি বাবার খুনিরা লাশ নিয়ে রাজনীতি করুক। এতে তা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক হতো।’