৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবি

পাবনায় নববধূর মুখ এসিডে ঝলসে দিল স্বামী

পাবনার ঈশ্বরদীতে ৬ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে মোছা. মিতু খাতুন (১৯) নামে এক নববধূর মুখ এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে স্বামী আরিফ হোসেন (২২)। গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার উপজেলা শহরের বাবুপাড়ায় আরিফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এসিড হামলার পর মিতুকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল বিকেলে তিনি বাড়িতে ফেরেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ঈশ্বরদী থানার ওসি মিতুকে থানায় ডেকে নিয়ে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। ঘটনার পর থেকেই আরিফ পলাতক।

গৃহবধূ মিতুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ২ মাস ৭ দিন আগে ঈশ্বরদী শহরের বাবুপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে আরিফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে উপজেলার আরামবাড়িয়া গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে মিতুর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কোনো প্রকার দাবি-দাওয়া না থাকলেও কিছুদিন পর থেকেই ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে আরিফ। মিতুর দরিদ্র বাবা সেই টাকা দিতে না পারায় মিতুর ওপর নির্যাতন শুরু করে আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা। সর্বশেষ আরিফের ছোটভাই আলমগীর হোসেনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য জেদের বশে মিতুর পরিবারের কাছে ৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। মিতুর পরিবার অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরিফ। ঘটনার দিন দুপুরে রাগে-ক্ষোভে আরিফ প্রথমে মিতুকে পানির সঙ্গে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পড়লে প্রথমে তার মাথার চুল ও ভ্রু কেটে মুখে এসিড ছিটিয়ে দেয় আরিফ। পরে স্থানীয়রা মিতুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মিতুর বাবা-মাসহ স্বজনরা এসে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ৩দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল বিকেলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় গৃহবধূ মিতুকে।

মিতুর বাবা মজিবর রহমান বলেন, ‘যৌতুকের জন্য একটি মেয়েকে হত্যার উদ্দেশে এসিড মারা হবে তা কল্পনার বাইরে। থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে।’ অভিযুক্ত জামাতা আরিফ হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবীর জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।