করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের দাবি ভারতের

ভারত সরকার দেশটির করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ‘নিয়ন্ত্রণের’ দাবি করেছে। বিগত এক সপ্তাহে দেশের এক-পঞ্চমাংশ জেলায় নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এরপরও ২৪ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, করোনা মহামারী মোকাবিলায় ভারত গত ১৬ জানুয়ারি থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এর মাত্র ১২ দিনের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসার দাবি করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তিনি বলেন, ভারত সফলভাবে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১২ হাজারের কম রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারত করোনা সংক্রমণের দিক থেকেও বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় অবশ্য দেশটিতে করোনায় মৃত্যুহার অনেক কম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্যে, এক সপ্তাহ ধরে ভারতের ৭১৮ জেলার মধ্যে ১৪৬টিতে (এক পঞ্চমাংশ) এবং ১৮ জেলায় প্রায় দুই সপ্তাহ নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। সুনির্দিষ্টভাবে দেশের করোনা গ্রাফের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে।

ভারত সরকার জানিয়েছে, সংক্রমণের হার কমে আসায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি সুইমিংপুল, সিনেমা হল ও থিয়েটারগুলোয় ৫০ শতাংশ ধারণক্ষমতার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান থাইরোকেয়ার টেকনোলজিস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ৭ লাখের মতো অ্যান্টিবডি টেস্ট করেছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইতিমধ্যে দেশটির অন্তত ৫৫ শতাংশ মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যে, ধারাবাহিক সংক্রমণ বন্ধ করতে হলে কোনো দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকতে হয়। তবে ভারতের টিকাদান কর্মসূচির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তারা এখনো ওই পর্যায়ে গেছেন বলে তিনি মনে করেন না। বিনোদ কুমার পাল নামে ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ জনবহুল জেলা ও শহরে এখন মহামারী চলছেৃ আপনি হয়তো বলতে পারেন, হার্ড ইমিউনিটির ব্যাপ্তি বেড়েছে।’