অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২ মামলা

সাতক্ষীরার আদালতে ‘প্রতারক’ সাহেদের বিচার শুরু

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদসহ বহুমাত্রিক জালিয়াতিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলায় সাতক্ষীরার আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক শেখ মফিজুর রহমান অভিযোগ গঠন শেষে মামলাটিতে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। সাহেদ করিম মামলা দুটির একমাত্র আসামি। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ দুই মামলার বিচার শুরু হলো।

এর আগে গত বুধবার সাহেদ করিমকে একই আদালতে হাজির করলে আসামিপক্ষের আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় গতকাল ফের তাকে আদালতে হাজির করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, গতকাল আদালতে হাজির করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারক শেখ মফিজুর রহমানের কাছে কথা বলার অনুমতি চান সাহেদ। অনুমতি দেওয়ার পর তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তাকে ঢাকা থেকে ধরে এনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সাতক্ষীরায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুটি মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যের দিন ধার্য করে। পরে সাহেদকে ফের সাতক্ষীরা কারাগারে নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবদুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাহেদ করিমকে দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে আদালত দুটি মামলায় তাকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় সাহেদ টকশোর ভঙ্গিতে নানা ঘটনার অবতারণা করলে আদালতের সরকারি কৌঁসুলিদের আপত্তির মুখে বিরত হন।’

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু বক্কর সিদ্দিকী অভিযোগ গঠনে আপত্তি তুললেও আদালতে তা খারিজ হয়ে যায় বলেও জানান পিপি আবদুল লতিফ।

গত বছর ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটার শাখরা কোমরপুর এলাকা দিয়ে ভারতে পালানোর কথিত চেষ্টার সময় বোরকা পরিহিত সাহেদকে কোমরপুর বেইলি সেতুর নিচ থেকে র‌্যাব-৬-এর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তার কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ২ হাজার ৩৩০ ভারতীয় রুপি, তিনটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও মোবাইল ফোন জব্দের কথা জানায় র‌্যাব। এ ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দেবহাটা থানায় সাহেদ করিম ও জনৈক বাচ্চু মাঝিকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার পরিদর্শক উজ্জ্বল কুমার মৈত্রের হাত ঘুরে র‌্যাবের উপপরিদর্শক রেজাউল করিম তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান। ওই বছর ২৪ আগস্ট বাচ্চু মাঝির হদিস না পেয়ে শুধু সাহেদ করিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।