চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় একটি গুলির শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতের একটি গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বাড়ির ছাদে কবুতরের খাঁচার মধ্যে থেকেই অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মেহেরুনেচ্ছা মুক্তা (৩৯) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই নারী মূল অভিযুক্তের স্ত্রী।
গতকাল শুক্রবার ডবলমুরিং থানায় সংবাদ সম্মেলন করে সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক জানান, বাসাটি নিজাম খান নামে এক ব্যক্তির। তিনি পলাতক। তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা মুক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে দুটি পাইপগান ও একটি এয়ারগান রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
ফারুক উল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বংশালপাড়া এলাকায় একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেই গুলির শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে এই কারখানার সন্ধান পায়। বাসাটিতে মূলত পাইপগান তৈরি করা হতো। নিজাম খানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামগুলো নিজাম খানের দোতলা বাড়ির ছাদে একটি কবুতরের বাসায় লুকানো ছিল। ভোট নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে নিজাম খান তার প্রতিবেশী শাহ আলমকে গুলি করেন। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাহ আলম বেঁচে যান। গুলির শব্দে চারদিক থেকে মানুষজন বের হলে নিজাম পালিয়ে যান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিজামের বাড়ির কবুতরের বাসা থেকে হাতুড়ি, করাত, কাগজের তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রের নকশা, এসএস পাইপ, লোহার পাইপ, বিভিন্ন আকারের স্প্রিং, ওয়েল্ডিং মেশিন, গ্রেডিং মেশিন, ওয়েল্ডিং হোল্ডার, আর্থিং কেব্ল, বিদেশি কাটার, রিপিট গান মেশিন, এসএস বক্স পাইপ, স্টিলের তৈরি দোনলা ব্যারেল, প্লাস্টিকের তৈরি সবুজ রঙের অস্ত্রসদৃশ বস্তু, লোহার ছেনি, কাঠের হাতলযুক্ত বাটাল, স্প্রিং প্লায়ার্স, নোজ প্লাস, স্প্রিং তৈরির প্লায়ার্স, লোহার তৈরি পাইপ রেঞ্জ, ড্রিল মেশিন, স্টিলের গ্রিপ প্লায়ার্স, প্লাস্টিকের বাঁটযুক্ত ছোড়া ও কাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
উপকমিশনার ফারুক বলেন, সেখানে যা পাওয়া গেছে তা দেখে মনে হচ্ছে নিজাম পেশাদার অপরাধী। নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করে বিক্রি করত। নিজামকে আটক করার পর জানা যাবে সে কাদের কাছে এবং কোথায় এসব অস্ত্র বিক্রি করত।
ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, বৃহস্পতিবার বংশালপাড়ায় গুলির শব্দের কথা এলাকাবাসী জানালে, সেখানে গিয়ে তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে এ অস্ত্র কারখানার সন্ধান মেলে। আমরা শাহ আলম নামে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করার বিভিন্ন সত্যতা পেয়েছি। নিজামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
এদিকে গত বুধবার অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ও ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকা প্রকাশ্য অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার করতে পারেনি গুলিতে নিহতের ঘটনায় করা মামলার আসামিদের। ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে লালখান বাজার, পাহাড়তলি, উত্তর পাহাড়তলি, পাথরঘাটা ওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কেন্দ্রের বাইরে অবৈধ অস্ত্রধারীরা ঘোরাফেরা করেছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এর মধ্যে অনেক অস্ত্রধারীর ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।