পুলিশের হামলা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ

গত বছরের নভেম্বর থেকে ভারতে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন কৃষকরা। সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক ও পুলিশি অত্যাচারের মুখে প্রায় ভেস্তে যাওয়া আন্দোলনে ফের প্রাণসঞ্চার হয়েছে। মধ্যরাতে আবেগপ্রবণ হয়ে চাষিদের নেতা রাকেশ টিকায়েতের কান্না বদলে দিয়েছে পুরো দৃশ্যপট। তার চোখের পানি আন্দোলনবিমুখ বহু আন্দোলনকারীকে ফিরিয়ে এনেছে বলে জানিয়েছে এনডিভি।

প্রজাতন্ত্র দিবসে লালকেল্লায় সহিংসতার পর থেকেই চাপে পড়েন কৃষক আন্দোলনের নেতারা। উত্তরপ্রদেশ-দিল্লির গাজিপুর সীমানা থেকে চাষিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই প্রচুর পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীও মোতায়েন করা হয় সেখানে। আন্দোলনকারীদের একাংশ এরই মধ্যে রণে ভঙ্গ দিয়ে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে পরিস্থিতি বদলে দেয় ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) জাতীয় মুখপাত্র রাকেশ টিকায়েতের সাংবাদিক সম্মেলন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একপর্যায়ে আবেগতাড়িত কৃষক নেতা কেঁদে ফেলেন। সেই ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় ইন্টারনেটে। কাঁদতে কাঁদতে প্রবীণ কৃষক নেতার আকুতি বদলে দেয় পরিস্থিতি। পুলিশকে উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা ফের জড়ো হতে থাকেন ধর্না চালানোর জন্য। রাকেশের এই কান্না দেখে রাতেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও কৃষক এসে যোগ দেন গাজিপুরে। গতকাল শুক্রবার কৃষকদের ‘মহাপঞ্চায়েত’ বা বড়সড় একটি বৈঠক হওয়ার কথা। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে সহিংসতার ঘটনায় রাকেশ টিকায়েতসহ একাধিক কৃষক নেতার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের এই নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না। প্রয়োজনে গ্রাম থেকে আরও কৃষক যোগ দেবেন আন্দোলনে।

গাজিপুর সীমানায় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রাকেশ বলেছেন, ‘দরকারে আত্মহত্যা করব। কিন্তু আন্দোলন থামাব না।’ আন্দোলন ভেস্তে দিতে পুলিশের সঙ্গে বিজেপির গুণ্ডারা এসেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। নিজেই গাজিপুর সীমানায় হাতে লাঠি নিয়ে ঘোরা একটি ছেলেকে ধরে চড় মারেন। দাবি করেন, ওই ব্যক্তি সংগঠনের কেউ নয়। এদের জন্যই আন্দোলন গতি হারাচ্ছে। রাকেশের অশ্রুসিক্ত বয়ানের সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই প্রাণসঞ্চার হয় প্রায় ঝিমিয়ে পড়া আন্দোলনে।

এদিকে দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভরত কৃষকদের তাঁবুতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তের সিঙ্ঘুতে কৃষকদের তাঁবুতে পাথর নিক্ষেপ এবং ভাঙচুর চালায় প্রায় ২০০ মানুষের একটি গ্রুপ। এই হামলার সময়ে তলোয়ারের আঘাত পেয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারী কৃষকরা শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিঙ্ঘু সীমান্তে দুপুর বেলা হঠাৎ করে কৃষকদের অবস্থানের মধ্যে কয়েকজন মানুষ কীভাবে ঢুকে পড়ল তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও কৃষকদের অবস্থানের চারপাশেই কড়া পুলিশ প্রহরা রাখা হয়েছে। ঢুকে পড়া মানুষেরা কৃষকদের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে তাদের সরে যাওয়ার দাবি জানায়। পরে উভয়পক্ষ পরস্পরের দিকে পাল্টাপাল্টি পাথর নিক্ষেপ করে। পাল্টাপাল্টি হামলার সময় পুলিশ সদস্যদের দূরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।