বিশ্বকে নতুন করে যা শিখিয়েছে মহামারী

করোনা মহামারীতে স্থবির হয়ে যাওয়া বিশ্ব নতুন করে কবে আবার আগের মতো হবে, সেটি নিয়ে দ্বিধা ছিল বিশ্ববাসীর মনে। দিনের পর দিন বাড়িতে থাকা, যোগাযোগ কমে আসা, অফিস-আদালতের কাজ বাড়ি থেকে করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সব মিলিয়ে স্বাভাবিকতা হারিয়ে গিয়েছিল। সময় থমকে গেলেও মহামারী মানুষকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে অনেক কিছু। লিখেছেন সানজিদা সামরিন

করোনার আঘাত

কভিড-১৯-এর ছোবলে বদলে গেছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। পুরো একটি বছর কেটে গেছে হারানোর বিষাদ গল্পে। প্রতিটি দিনের ওপর দিয়ে হেঁটে গেছে মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বজুড়ে চাকরি হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ, ব্যবসায় নেমেছে ধস। শিশুরা হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবন। গত বছরের পুরোটাই কেটেছে মৃত্যুর আশঙ্কা, হারানোর ব্যথা আর নিদারুণ স্থবিরতায়। এরই সঙ্গে এই মহামারী চোখের সামনে এমন এক জানালা খুলে দিয়েছে, যেখানে স্পষ্ট দৃশ্যমান আমাদের ছোট-বড় হাজারো ব্যর্থতা ও আগে নেওয়া কিছু ভুল পদক্ষেপ। অন্যান্য দেশ বাদ দিয়ে যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কথা ধরা হয়, তবু বলতে হয়, মহামারীতে দেশটি স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার অভাব থেকে শুরু করে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিয়মসহ সমাজের দুর্বল দিকগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। স্পষ্ট করে দিয়েছে ঠিক কোন কোন জায়গায় কাজ করতে হবে আর কোথায় নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯ স্বল্প আয়ের কর্মী, শ্রমিক ও কৃষ্ণাঙ্গ জনসাধারণের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, নীরবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা বর্ণবৈষম্য কীভাবে সমাজে পক্ষপাতিত্ব শুরু করে আধিপত্যের সঙ্গে এখনো টিকে আছে। মহামারী চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করাটা কতটুকু অসমর্থনযোগ্য, কোথায় ছিল ভুল, অজ্ঞতা ও ত্রুটি। স্বাস্থ্য, খাদ্য, সমাজ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ জায়গা থেকে তুলে ধরেছেন এই মহামারীর ফলে বিভিন্ন খাত কী কী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এসব খাতে নীতিনির্ধারণের বেশ কয়েকটি দিক আবার বিবেচনা করা হয়েছে। এক কথায়, মহামারী আমাদের নতুন অনেক বিষয় শিখিয়েছে, যেগুলোর ভাবনা নিয়ে আগে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বর্ণবাদ ও বৈষম্য

বর্ণবাদের কারণে সৃষ্টি হওয়া বৈষম্যের গল্প আজ নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরে বৈষম্যের কারণে সুযোগ-সুবিধা এমনকি অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়ে আসছে মানুষ। এই মহামারীতে সেই বর্ণবাদের ইতিহাস যেন নতুন পাতা উল্টিয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস অ্যালায়েন্সের রিল্যায়েন্সি প্ল্যানার প্রিয়া মুলগাওকারের মতে, বছরের পর বছর ধরে বর্ণবৈষম্যের পর্দার আড়ালে বহুদিন ধরে চাপা পড়ে ছিল এমন মানুষদের সামনে এনেছে এই মহামারী। কভিড-১৯ প্রতি ধাপে বর্ণবাদী মানুষের বৈষম্যের ঘটনা শুনিয়েছে। এ সময় পরিবেশগত বর্ণবাদ, পুলিশের নির্মম আচরণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ভার মেনে নিতে হয়েছে এক শ্রেণির জনগোষ্ঠীকে। কভিড-১৯ মোকাবিলা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানরা যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অপারগ ছিলেন। যার ফল ভোগ করতে হয়েছে একদল মানুষকে। আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তৈরি হওয়া এ ঝড় পার করতে, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী ও নিম্ন আয়ের সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়াও সম্ভব হয়নি। গতানুগতিক এই বর্ণবাদ বৈষম্যকে দূর করা না গেলে ভবিষ্যতের রোগ মোকাবিলা কতটুকু সম্ভব হবে, তার পূর্বাভাসও দিয়েছে এই মহামারী।

বোস্টন শিশু হাসপাতালের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড পেডিয়াট্রিকের জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক পরিবেশ কেন্দ্রের অন্তর্বর্তী পরিচালক অ্যারন বার্নস্টেইন বলেছেন, ‘এই মহামারী সবচেয়ে বেদনাদায়ক উপায়ে আমাদের দেখিয়েছে কী কী বিষয় আমাদের ঠিকঠাক করতে হবে। কোন কোন ফাটলে মেরামত করতে হবে। জেনেছি অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বৈষম্যগুলো একটা পর্যায়ে গিয়ে কীভাবে আমাদের আঘাত করে। এই বৈষম্যগুলোকে এক ধরনের ফাটল হিসেবে উল্লেখ করা যায় যেগুলো মহামারী, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিষয়ক হুমকি হয়ে আবির্ভূত হয়। একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বননিধন প্রতিরোধ করা। পরবর্তী মহামারী যেন বন্যা না হয় সেজন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব বিশ্ব নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করা দরকার।’

২০২০ সাল থেকে আরও শেখার ছিল সংকটকালে আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে। কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী ও নিম্ন আয়ের সম্প্রদায়কে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হলে বা বৈষম্য দূর না করতে পারলে পৃথিবী বসবাসযোগ্য থাকবে না। বছরটি আমাদের জানিয়েছে জলবায়ু, আবাসন, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে কতটা জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিটি বিষয় নিয়ে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে এখন।

রোগ মোকাবিলা

টেক্সাস সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির নগর-পরিকল্পনা ও পরিবেশ নীতি সম্পর্কিত বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং লেখক রবার্ট বুলার্ড বলেন, কভিড-১৯ একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কাজ করেছিল, যা আমাদের সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির ওপর সবার আগে আঘাত হানে। যার ফলাফল ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে অগণিত সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা। এই মহামারী আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মারাত্মক ত্রুটিগুলো প্রকাশ করেছিল, যার উচ্চতর ঝুঁকি বহন করতে হয়েছে সম্মুখসারির কর্মীদের। পাশাপাশি চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এই মহামারী বর্ণগত অর্থনৈতিক ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সবাই সমানভাবে ত্রাণ বা প্রণোদনা পায়নি। মহামারীতে সরকারি প্রণোদনা এবং ত্রাণ বিতরণের নকশায় প্রভাবশালী ও শ্বেতাঙ্গদের জন্য বরাদ্দ অর্থ বেশি করে নজরে এসেছে।

কভিড-১৯ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি দেশে বসবাসরত সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠী মূলত তাদের সীমিত আয়, অর্থনৈতিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবায় পরিমিত সুবিধা না পাওয়ার কারণে খুব দ্রুত সবচেয়ে ক্ষতিকারক বিপর্যয়ের শিকার হয়। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ যেমন হারিকেন, বন্যা, খরা, দাবানল ও অন্য ঘটনাগুলোয় সরকারের প্রণোদনায় শ্বেতাঙ্গ ও সমৃদ্ধ পরিবারগুলো উপকৃত হয় এবং সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকে। হারিকেন ক্যাটরিনা মার্কিন উপসাগরীয় উপকূলকে বিধ্বস্ত করার বহু আগে থেকেই কৃষ্ণাঙ্গরা শিখেছে সরকারের প্রতিক্রিয়া জানার বা প্রণোদনা পাওয়ার অপেক্ষা করা তাদের জন্য বিপজ্জনক। আর তাই এ বৈষম্য কমিয়ে অন্তত জলবায়ুজনিত দুর্যোগগুলোর সমাধানে সুষ্ঠু জলবায়ু, পরিবেশ, অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য এবং জাতিগত নীতির সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবা

পরামর্শ সংস্থা দি ইকুইটিস্টের সভাপতি ও সিইও লরেন আর. পাওয়েল টাইমস আপ ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যসেবা প্রধান বলেন, ‘বর্তমানের এ সময়ের সঙ্গে সত্যিই অন্য কোনো সময়ের মিল নেই। এটি দারিদ্র্য, বর্ণবাদ, লিঙ্গবাদ, শ্রেণিবাদের মধ্যে সামাজিক ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি নতুন, আবার অনেকে বেশ আগে থেকেই এর সঙ্গে পরিচিত। সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হওয়ায় সরাসরি আমি সহায়তা করতে পারছি না এটা সত্যি। আশা করছি বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগ শিক্ষা নেবে। এজন্য সবচেয়ে জরুরি প্রতিটি খাতের সক্রিয়ভাবে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থানে থেকে কাজ করা।’ সব খারাপেরই কিছু ভালো দিক থাকে। সেদিক বিবেচনা করলে কভিড-১৯ মহামারীর ক্ষয়ক্ষতি ও ট্র্যাজেডি আমাদের জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আবার সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতাভুক্ত ও কার্যকর করার একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

গৃহকর্মীদের মূল্যায়ন

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা চাকরি হারিয়েছেন এটি যেমন সত্য, একই বাস্তবতা গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও। এমন নয় যে, বাড়িতে কাজ করেন বলে তারা ভালো আছেন। তাদের অবদানের কথাও কোনোভাবে অস্বীকার করা যাবে না। জাতীয় গৃহকর্মী জোটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আই-জেন পু এক বাক্যে বলেন, ‘আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে বাড়িতে কাজ করা কর্মীরা সব সময় অপরিহার্য। করোনা চলাকালীন আমাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অনেক কর্মী চাকরির নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন এবং অবমূল্যায়িত হয়েছেন। খামারকর্মী, মুদি দোকানি থেকে শুরু করে বাড়িতে কাজ করেন ও শিশুদের যত্ন নেন এমন কর্মীরা ঠিকঠাক বেতন পাননি। অনেক কর্মীকেই বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছিল। বাড়ি ও পরিবারের জন্য যেভাবে তারা ভূমিকা রেখে চলেছেন, তাদের অবদানের কথা আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

আমেরিকার উচিত এই কর্মীদের মৌলিক সুরক্ষা দেওয়া। আমরা নিজেরা চাইলেও এ ধরনের কর্মীদের সমর্থন দিয়ে তাদের সুরক্ষার কাজটি শুরু করতে পারি। এই কাজগুলোয় যদি মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা যায়, তবে শুধু তাদের জীবনই উন্নত হবে তা নয়, আর্থিকভাবে সক্ষম হবে আমেরিকাও। নিরাপদ থাকল আমাদের পরিবারও। ইতিমধ্যে নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। একবিংশ শতাব্দীকে অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য এটি নিয়ে পরিকল্পনাও সাজানো হয়েছে। এখন প্রয়োজন শুধু এটিকে বাস্তবায়ন করা।’

নতুন ঐক্যের প্রেরণা

খাবার নিয়ে কাজ করছেন অথবা রেস্তোরাঁ মালিক যারা আছেন তারাও বাধ্য হয়েছিলেন নিজেদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে। ফলাফল চাকরি হারিয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। সরাসরি তাদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা করা যায়নি বলে রেস্তোরাঁ মালিকরা মিলে চেষ্টা করেছেন তাদের টিকে থাকায় সহায়তা করতে। ওয়ান ফেয়ার ওয়েজের সভাপতি এবং বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার খাদ্যশ্রম গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক সারু জয়রামন মনে করেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি অবিশ্বাস্যভাবেই এক নতুন ঐক্যের প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কভিড-১৯-এর কারণে রেস্তোঁরাশিল্পে ধস নেমেছে। রেস্তোঁরাকর্মীসহ সর্বনিম্ন মজুরির শ্রমিকদের করতে হয়েছে বিভীষিকাময় সময়। মহামারীর আগে রেস্তোরাঁয় কর্মরতরা ফেডারেল স্টোরে ঘণ্টায় ২.১৩ ডলার মজুরি পেতেন। মহামারীর সময় তাদের মজুরি টিকে থাকার জন্য বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। রেস্তোরাঁ মালিকরা নিজ থেকেই এই কঠিন পরিস্থিতি দূর করার চেষ্টা করেছেন। কর্মীরা যেন নিয়মমাফিক বেতন পান সেজন্য তৈরি করেছেন নিজস্ব বেতন কাঠামো। কর্মীদের প্রতি এমন সহানুভূতি নিঃসন্দেহে দারুণ দৃষ্টান্ত। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে সংবাদপত্রসহ বাণিজ্য ম্যাগাজিনগুলোয়ও। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য এই খাতে মালিকদের নতুন ঐক্য বেশ প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেন, ‘মহামারী আমাদের যতগুলো বিষয় শিখিয়েছে তার মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ অন্যতম। প্রিয় কফি শপে বা ছুটির দিনগুলোয় পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সময় কাটানোর ব্যাপারগুলো নিয়ে কভিডের আগে আমি কখনোই এতটা আনন্দিত হইনি। আমার মনে হয় মহামারী শেষ হয়ে গেলেও আনন্দের এই বিষয়গুলোর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। ছোট যে বিষয়গুলোয় এর আগে আমরা মনোযোগ দিইনি, সেগুলোয় কিছুটা হলেও মনোযোগ দেব, মানুষের কাজের প্রশংসা করব। নিজেদের ভেতর এই মনোভাব গড়ে তুলতে পারলে অন্যের জন্যও সেটি উপকারী হবে।’

ফুড ডিজাইন

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি, খাদ্য অধ্যয়ন এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অধ্যাপক মেরিয়ন নেসলে বলেন, ‘খাবারের গুরুত্ব হোক অথবা প্রয়োজনীয়তা, সেটি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। মহামারীর সময় বিষয়টি আরও জরুরিভাবে অনুধাবন করেছি সবাই। এজন্য সবার আগে ফুড ডিজাইন করতে হবে। আমাদের এখানে দুটি স্বতন্ত্র খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।

প্রথমটি বরাদ্দ রয়েছে সুপারমার্কেট, মুদি ও স্টোরগুলোর জন্য। অন্যটি বরাদ্দ রেস্তোরাঁ, স্কুল এবং এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের খাদ্যসেবাগুলোর জন্য। মহামারীর সময় অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রচুর পরিমাণে খাবার নষ্ট হয়। মহামারীতে চাকরি হারানো মানুষগুলোও বিপদে পড়েছিলেন। অনেকেই খাবার কেনার জন্য অর্থ জোগাড় করতে পারেনি। বেসরকারি খাদ্য সরবরাহকারীদের বিলি করা খাবারের জন্য তাদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এমন একটি খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা জনসাধারণের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। আমি বিশ্বাস করি খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে, দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সক্ষম এমন খাবার প্রস্তুতে, বর্তমান খাবারের চাহিদা পূরণে নতুন প্রশাসন খাবারবিষয়ক এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত সামলে উঠবে।’