বাচ্চাদের ইমিউনিটি বাড়াতে

করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে স্কুল-কলেজ খুলতে যাচ্ছে। বাচ্চারা স্কুল-কলেজে যাবে। অনেক বাবা-মা আতঙ্ক ও দ্বিধায় আছেন বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাবেন কি না এ নিয়ে। এ সমস্যা কাটাতে বাচ্চার ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন। আর ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো থাকলে সহসাই বাচ্চা যেকোনো রোগব্যাধি থেকে দূরে থাকবে। বাচ্চার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী করবেন জানালেন পুষ্টিবিদ আসফি মোহাম্মদ

বাচ্চাকে প্রসেসড ফুড খাওয়ানো কমাতে হবে। প্রসেসড ফুড রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। এই ধরনের খাবার ঠিকভাবে হজম হয় না । ফলে শরীরে টক্সিন জমা হতে থাকে। হোল গ্রেইন আর দুগ্ধজাত খাবার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাজা ফল ও সবজি শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তেল-মসলা কম দিয়ে বাসার রান্না করা খাবার বাচ্চাকে খেতে দিন। সহজে হজম হবে। অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাবার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। অন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বাচ্চাকে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো বন্ধ করুন। সাপ্লিমেন্টে দেহের ভারসাম্য নষ্ট হয় অনেকাংশেই। রঙিন সবজি ও ফলে ভিটামিন সি থাকে। যা দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার রাখুন। বাচ্চার ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি ঠিক করে তাকে খাবার দিতে হবে। খাবারে অবশ্যই শর্করা (ভাত, রুটি, ব্রেড, নুডলস, আলু ইত্যাদি), আমিষ (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি), ফ্যাট (যেকোনো তেল, দুধ, মাংস ইত্যাদি), সবজি (সবুজ, হলুদ শাক-সবজি) ও ফল থাকতে হবে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার যেন থাকে। ভিটামিন-সি ক্ষতিকর জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে এপিথিলিয়াল প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দৃঢ় করে। এমনকি অণুজীবের ধ্বংস করার হারও বাড়িয়ে দেয়। পেয়ারা, আমলকী, কমলা, জাম্বুরা, সজনেপাতা, শাক, লেবু, কাঁচামরিচ ইত্যাদিতে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যাবে। প্রতিদিন রোদে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা) ১৫ থেকে ৩০ মিনিট থাকলে ভালো। এতে শরীর সূর্যের আলো নিয়ে কার্যকর ভিটামিন ডি তৈরি করবে। যা বাচ্চার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। অনেক সময় অনেকের শরীরে কার্যকর ভিটামিন-ডি খুব কম থাকে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্টারি খেতে দিতে পারেন। মনে রাখবেন সূর্যের আলো ছাড়া ভিটামিন-ডি শরীরে কার্যকর হয় না। মাছের তেল, ডিম ইত্যাদিতে ভিটামিন-ডি থাকে। বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করাবেন। খাবারের মধ্যে পানি না খেয়ে খাওয়ার আগে এবং পরে খাওয়াবেন। সকালে খালি পেটে পানি খেতে দিন। প্রো-বায়োটিক খেতে হবে প্রতিদিন। প্রো-বায়োটিক একটি ভালো ব্যাকটেরিয়া যা শরীরে খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করে। দইয়ে প্রো-বায়োটিক পাওয়া যায়। এছাড়াও সাপ্লিমেন্টারি হিসেবেও খেতে পারেন। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার বা ভালো ফ্যাট যা কডলিভার তেল, অলিভ তেল, সামুদ্রিক মাছ বা মাছের তেল, বাদাম ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়, সেগুলো প্রতিদিন খেতে হবে। এতে ভিটামিন-এ ও ডি পাওয়া যাবে। জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াবেন। প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে জিংক পাওয়া যায়। তাই খাদ্যতালিকায় প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, ডিম, মিষ্টিকুমড়ার বিচি ইত্যাদি) রাখার চেষ্টা করুন।

প্রতিদিন বাচ্চাকে ১ ঘণ্টা খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রম করতে দিন। ব্যায়াম বা বাসার কাজও হতে পারে। রাতে বাচ্চাকে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে দিন। এছাড়া মসলা জাতীয় খাবার যেমন আদা, রসুন, লবঙ্গ, সিড (সরিষা, গোলমরিচের গুঁড়ো, চিয়া সিডস ইত্যাদি) কালোজিরা ইত্যাদি প্রতিদিন একটু একটু করে খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন। মাস্ক পরার অভ্যাস ও হাত স্যানিটাইজার করা শেখান। এই খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ম প্রতিদিন মেনে চলতে হবে। একদিন মানলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে না। নিয়মিত মেনে চললে রোগাক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। 

মডেল : আনায়া  ছবি : মারজান অন্যা