ডিসেম্বরেই খুলনা-মোংলা ট্রেন চালু : রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, মোংলা-খুলনা রেললাইন স্থাপনে মোংলা বন্দরের সামর্থ্য বা সক্ষমতা বাড়বে। এখন ট্রাকে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বেশি লাগছে। রেল চালু হলে সময় ও খরচ কমে যাবে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগও হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে এ রেল যোগাযোগ থাকছে। ফলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান এই ৪ দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে প্রতিটি দেশই ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে। গতকাল শনিবার মোংলা-খুলনা রেললাইন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করে মোংলা বন্দরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা প্রাদুর্র্ভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্ব এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি। করোনায় কাজ বাধাগ্রস্ত হলেও চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। এতে ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। রেললাইনের মাটির কাজ চলতি শুকনো মৌসুমে শেষ হলে ডিসেম্বরেই এ রেললাইন চালু করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে রূপসা রেল সেতুসহ অন্যান্য ব্রিজ-কালভার্টের কাজ প্রায় শেষের পথে।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার, মোংলা-খুলনা রেললাইন নির্মাণের ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইরকনের প্রকল্প ম্যানেজার অজিত কুমার, ডেপুটি ম্যানেজার তীর থংকর জানা ও বিরেন সাহা।

২০১৬ সালে শুরু হওয়া মোংলা-খুলনা রেললাইন নির্মাণকাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। নানা প্রতিকূলতায় চতুর্থবারের মতো ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এ রেলপথ প্রকল্পটি তিনটি অংশে বিভক্ত। রেলসেতু, রেললাইন ও  টেলিকমিউনিকেশন এবং সিগন্যালিং। এছাড়া রূপসা রেল সেতুসহ ২১টি ছোট-মাঝারি ব্রিজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মাণ হচ্ছে এর আওতায়।