কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) চলতি মূলধন ঋণের পাশাপাশি মেয়াদি ঋণও ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলো সিএমএসএমই খাতের মেয়াদি ঋণ বিতরণ বাড়াতে উৎসাহ পাবে বলে আশা করছেন ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় ক্ষুদ্র শিল্পের বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম দিয়ে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা গ্রহণ করে। এই সুবিধার আওতায় থাকা কোনো ঋণখেলাপি হয়ে পড়লে ঋণের একটি অংশ ভর্তুকি পায় ব্যাংকগুলো। এতে ঋণ আদায়ের ঝুঁকি কমে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সমগ্র সিএমএসএমই খাতে করোনার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এক্ষেত্রে অনেক সিএমএসএমই উদ্যোক্তা চলতি মূলধন ঋণ না নিয়ে কেবল স্বল্প মেয়াদি ঋণ নেন। এ কারণে করোনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সিএমএসএমই খাতের মেয়াদি ঋণকেও ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে।
করোনা মহামারীর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত ২৭ জুলাই সরকার সিএমএসএমই খাতের জন্য ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ভর্তুকি সুবিধার আওতায় থাকবে।
তবে ক্ষুদ্রঋণের বিতরণ বাড়াতে গত ৪ নভেম্বর সব ধরনের ক্ষুদ্রঋণকে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় নিয়ে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এই স্কিমের আওতায় জামানতহীন ঋণ আদায় না হলে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লোকসানের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে।
তবে এ ধরনের গ্যারান্টি সুবিধা পেতে প্রতিটি ঋণ পোর্টফোলিওর বিপরীতে এক শতাংশ হারে গ্যারান্টি ফি দিতে হয়। এই ফি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করতে পারে। নারীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এই গ্যারান্টির আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়। মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজি হিসেবে গ্রাহককে সংগ্রহ করতে হবে। তাহলে প্রকল্পের বাকি ৮০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের হার যদি (৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক) ১০ শতাংশের বেশি থাকে তাহলে ওই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই গ্যারান্টি স্কিমের সুবিধা পায় না।