বেনাপোল বন্দর দিয়ে টানা ২ দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার সচল হয়েছে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের জীবন-জীবিকা বাঁচাও কমিটির ডাকা ধর্মঘটীদের ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ায় তারা তাদের লাগাতার ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।
এর আগে, বাণিজ্য পরিচালনায় নিরাপত্তার নামে সীমান্তরক্ষী বিএসএফ কর্তৃক ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ পণ্য খালাসের জটিলতা নিরসনে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংগঠনটি আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে দুদেশের বন্দর এলাকায় আটকা পড়ে কয়েক হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, ধর্মঘট আহ্বানকারীরা বাণিজ্য সচল করার জন্য রবিবার ও সোমবার দফায় দফায় বৈঠক করে আসছিলেন প্রশাসনের সঙ্গে। কিন্তু তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় গত দু’দিন কোনো পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে জীবন-জীবিকা বাঁচাও কমিটির ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলনকারীরা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
সকাল থেকে ৮২ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে ও ২৯ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, সকাল থেকে দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। আটকে থাকা পণ্য যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত খালাস নিতে পারেন সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাক আমদানি হয় ও ২শ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পাদনে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যরা বেনাপোল বন্দরে ডকুমেন্টস নিয়ে আসা-যাওয়া করতেন। কিন্তু সীমান্তরক্ষী বিএসএফ হঠাৎ করে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিএসএফ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সব পণ্যবাহী ট্রাক তল্লাশির নামে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করে। এ সংগঠনটির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন, আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন।