আলজাজিরার প্রতিবেদন ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ

বাংলাদেশকে নিয়ে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন স্টেশন আলজাজিরায় সম্প্রতি প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রীরা। ওই প্রতিবেদনকে ‘নোংরামি ও ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন তারা। গতকাল বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আলাদা অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তারা বলেছেন, দেশে টেলিভিশন চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

আলজাজিরা টেলিভিশনে গত সোমবার ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনটি নিয়ে গত মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনটি শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ও অপপ্রচারের নোংরা বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকালসেতুমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকারের সমালোচনাও করছে। দেশের এত স্বনামধন্য ও সরব (ভাইব্রেন্ট এবং অ্যাকটিভ) মিডিয়া যেখানে কোনো ধরনের তথ্য পায়নি, সেখানে আলজাজিরা টেলিভিশনে শেখ হাসিনাকে নিয়ে অসত্য তথ্যপ্রচার অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘লন্ডনে বসে যারা দেশবিরোধী অপপ্রচার করছে এবং উসকানি দিচ্ছে; এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সেই অশুভ চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। জনগণ মনে করে এ প্রতিবেদন লন্ডনভিত্তিক অপপ্রচারের অংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার অন্যায়-অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নীতি স্পষ্ট করেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’

গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। আলজাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। প্রতিবেদনে তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে।’ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার সময় আপনারা দেখেছেন, শেখ হাসিনার বডিগার্ড কারা ছিল? এই সুরঞ্জিত (সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত), এই সাবের হোসেন (সাবের হোসেন চৌধুরী), এই মায়া (মোফাজ্জল হোসেন মায়া) ভাই এরাই ছিল বডিগার্ড। কোনো রকমের পয়সা দিয়ে বডিগার্ড শেখ হাসিনা কখনো নিতেন না। আর বডিগার্ডের সিস্টেম তো সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু ওরা (আলজাজিরা) বড় করে দিয়ে দিল, দুই ছেলে ওরা বডিগার্ড।  প্রতিবেদনে তথ্যগত যে ভুল আছে সেটির বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আমরা লিগ্যাল অ্যাকশনে যেতে পারি।’  

বাংলাদেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, ‘আলজাজিরা বলেছে আরও কয়েকটি প্রতিবেদন দেখাবে। তাদের সম্প্রচার বন্ধ করার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।  কারণ বন্ধ করে খুব একটা লাভ নেই, পৃথিবী এখন উন্মুক্ত। আমরা আশা করব, আলজাজিরা আরও দায়িত্বশীল হবে। অনেকে ধারণা করছেন, অনেকে পয়সা দিয়ে আলজাজিরাকে দিয়ে এই প্রতিবেদন করিয়েছে।’

আলজাজিরা তার ‘গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা’ হারিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকায় আলজাজিরা দেখা যায় না। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দেখতে হয়।’ 

ড. মোমেন বলেন, ‘আলজাজিরা একটা প্রতিবেদন করেছে, একটা ছবি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়ানো দুই ভদ্রলোক, দুই ভাই যারা বিতর্কিত তারা প্রধানমন্ত্রীর বডিগার্ড। যেটি ডাহা মিথ্যা। উনার (প্রধানমন্ত্রী) কোনো বডিগার্ড নেই, বিরোধী দলে থাকাবস্থায়ও ছিল না, সব নেতাকর্মীরাই তার বডিগার্ড। এখন এসএসএফ আছে। কেউ পেছনে এসে ছবি তুললেই বডিগার্ড হয়ে যায় না। এটি তাদের মিথ্যা সংবাদ। আলজাজিরার মতো নামকরা গণমাধ্যম এ ধরনের সংবাদ করতে পারে, বিষয়টি অবাক করার। তাদের (আলজাজিরা) উচিত ক্ষমা চাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আলজাজিরা বাংলাদেশের ভালো জিনিস দেখতে পারে না। আলজাজিরার কাজই হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর দোষ খুঁজে বের করা। সেখানে অনেকে ফান্ডিং করে। ব্রিটিশরা নিয়ন্ত্রণ করে এটি। আমাদের একজন জামাই তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন; যেটি খুবই দুঃখজনক, যারা সবসময়ই ভালো জিনিসের বিপক্ষে আছেন।’

আলজাজিরার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না আমরা সরাসরি যোগাযোগ করিনি। আমরা এই প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়েছি।’