খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৩ বাসায় ডাকাতি, হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক রাতে ৩টি বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা বাসার লোকজনকে খাবারের সাথে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৩ পরিবারের ১৬ জনকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ ফেসবুকের স্ট্যাটাস ও ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচেতন অবস্থায় ওই ১৬ জনকে উদ্ধার করে।

তারা হলেন- পৌরসভার শ্যামলী আবাসিক এলাকার ব্যবসায়ী খালেদ মিয়া (৩৫), তার স্ত্রী উম্মে জাহান উর্মি (২৬) মা শামসুন্নাহার (৫০), বোন সাকেরা বেগম (৩৪), ভাই জাহেদ মিয়া (২০)  ও কাজিন রাশেদ আহমেদ (২০), পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা টিউবওয়েল ঠিকাদার আব্দুল লতিফ (৫০), তার স্ত্রী রাহেলা বেগম (৪০), তার দুই কন্যা সীমা আক্তার (২৩) ও রীমা আক্তার (১৭), একই দালানের ওপর তলার ফরিদ মিয়া (৫০) ও স্ত্রী ও ৪ ছেলে- এদের নাম জানা যায়নি। পরিবার ৩টি জনৈক মিলন মিয়ার এই বাসায় ভাড়া থাকত।

ডাকাতরা প্রথমে তাদের খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে। পরে জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

খালেদ মিয়ার ভগ্নিপতি বাকের মিয়া জানান, আগের দিন রাত ১২ টার দিকে পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে ভোর চারটার দিকে খালেদ মিয়া কিছুটা সুস্থ অবস্থায় জেগে ওঠেন। এরপর পরিস্থিতি বুঝে তার ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস ও একই সঙ্গে ৯৯৯ ফোন দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ এসে খালেদ মিয়া ও তার পরিবারের ৫ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

বাকের মিয়া জানান, রান্না ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে ব্যবসার নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। পুলিশের উদ্ধার কাজের সময় পাশের ও ওপরের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা জেগে চিৎকার করলে পরিবার দুটির আরও ১১ সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এর মধ্যে আব্দুল লতিফের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এম এ কাইয়ুম নামে স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, খালেদ মিয়ার বাসা ছাড়া অপর দুই বাসার কোন কিছু খোয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, সন্ধ্যার কোন এক সময় দুষ্কৃতিকারীরা রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারে চেতনানাশক স্প্রে করে থাকতে পারে। রাতে এ খাবার খেয়ে এই তিনটি পরিবারের সদস্যা অচেতন হয়ে পড়ার সুযোগে চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ নিয়ে পুলিশ সক্রিয়। অপরাধীদের আটকের চেষ্টা চলছে।