জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের অভ্যুত্থান ব্যর্থ করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভ্যুত্থান নেতাদের বুঝিয়ে দিতে হবে যে, নির্বাচনের উল্টো ঘটনা অগ্রহণযোগ্য, এটি দেশ শাসনের কোনো উপায় নয়। মিয়ানমারের ওপর পর্যাপ্ত চাপ প্রয়োগ করে এই অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ে মূল ভূমিকা পালনকারী দেশগুলোকে সক্রিয় করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করব আমরা।
গত বুধবার ওয়াশিংটন পোস্টের সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল ও জনগণের ইচ্ছা উল্টে দেওয়া পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। এটি দেশ শাসনের উপায় নয় আর এটি সামনে এগিয়ে যাওয়ারও কোনো পথ নয়, এটি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে বুঝিয়ে দেওয়া যাবে বলে আশা করছি আমি।
মিয়ানমারে সাংবিধানিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য একমত হবে বলে আশাবাদী আমি।
এদিকে অভ্যুত্থানের ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি চীন। নিরাপত্তা পরিষদ থেকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতির জন্য চীনের সমর্থন লাগে। দেশটি পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় ভেটো ক্ষমতার অধিকারী।
গত সোমবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশটির নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে আটক করে। এখন তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করেছে দেশটির পুলিশ। এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে। অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি বা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের কোনো কথা শোনা যায়নি।
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানকারী সামরিক কর্মকর্তারা ১১ সদস্যের একটি সুপ্রিম কাউন্সিল গঠন করেছেন। দেশজুড়ে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা সামরিক বাহিনী তাদের পদক্ষেপের বৈধতা দেওয়ার জন্য নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। ওই নির্বাচনে সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল।