চা। জনপ্রিয় এই পানীয় পান করেন না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। সকাল-বিকেল নাশতার পর এক কাপ চা না খেলে যেন দিনটিই অনেকের মাটি হয়ে যায়। কাজের অবসাদে এক কাপ চা মনকে নিমেষেই চাঙা করে তোলে।
সাধারণত ব্ল্যাক টি বাজারে বেশি পাওয়া যায়। কারণ এর দাম নাগালের মধ্যে। হালে কিছু কিছু চা বাগানে গ্রিন টি বা সবুজ চা উৎপাদন হচ্ছে। সীমিত উৎপাদন ও ক্রেতা কম হওয়াতে বাজারে এর দাম বেশি। তবে, দেশে এই প্রথমবারের মতো উৎপাদিত হয়েছে হোয়াইট টি বা সাদা চা।
হবিগঞ্জের বৃন্দাবন চা বাগানে এই হোয়াইট চায়ের পরীক্ষামূলক উৎপাদন করা হয়েছে। নাম শুনলে মনে হতে পারে এটিও সাধারণ চায়ের মতো। রং হয়তো সাদা। আসলে তেমন নয়। এটা বরং দেখতে অনেকটা ছোট আকারের লইট্যা শুঁটকির মতো। আমরা যে মানের চা পান করে থাকি তার চেয়ে বহু গুন উপকারী হোয়াইট টি। দামও বেশ চড়া।
হোয়াইট-টি বা সাদা চা বাগানের সবচেয়ে কচি পাতা থেকে তৈরি হয়। মেশিনের পরিবর্তে হাতে কেটে এগুলো শুকাতে হয়, অত্যন্ত যত্ন সহকারে। যার কারণে এটি সবচেয়ে ব্যয় বহুল চা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন চা বাগানের ‘হোয়াইট টি’ বা সাদা চা কেজি প্রতি ৫ হাজার ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বৃন্দাবন চা বাগানের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, হোয়াইট টি তৈরির প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। সাধারণ চা (ব্ল্যাক টি) যেখানে ১২ ঘণ্টায় তৈরি সম্ভব সেখানে এর সময় লাগে কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা। ৫ কেজি কুঁড়ি চা পাতায় ১ কেজি হোয়াইট টি হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, দেশে এর চাহিদা তেমন বাড়েনি। তবে বহির্বিশ্বে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চীন, ভারত, শ্রীলঙ্কার পর পরীক্ষামূলকভাবে আমরাই প্রথম বাংলাদেশে এই চা উৎপাদন করেছি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্রে ৮ কেজি হোয়াইট টি ৪০ হাজার ৮০ টাকায় এবং ১শ কেজি গ্রিন টি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেলিম টি হাউস এটি কিনে নেয়। তিনি ধারণা করছেন বাজারে হোয়াইট টি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যাবে না।
তিনি জানান, হোয়াইট টি গরম পানিতে ছাড়ার কিছুক্ষণ পর পানি ও শুকনো পাতার রং সবুজ হয়ে যায়। এই চা ক্যানসার প্রতিরোধক ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।
এ বছর ভারতের মনোহরি চা বাগানে উৎপাদিত হোয়াইট টি ৭৪ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি ।
১শ বছরের পুরোনো বৃন্দাবন চা বাগানে ভবিষ্যতেও হোয়াইট টি বা সাদা চা উৎপাদন অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যানেজার নাসির উদ্দিন। এতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক অর্থ আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।