সরবরাহ কমায় দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিপুর উপজেলার হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হিলি বাজারে দুদিন আগেও ২০-২২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও বর্তমানে প্রতি কেজি ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাজারে নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে পড়তা না থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশের বাজারে দাম বাড়ায় আমদানির চিন্তা করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এরপর সম্প্রতি পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ায় ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সাড়ে তিন মাস পর গত ২ জানুয়ারি থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও পরিমাণ কম ছিল। এর ওপর পেঁয়াজ আমদানিতে সম্প্রতি সরকার ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ করায় পড়তা না থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিনহাজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুদিন আগে আমরা পেঁয়াজ কিনেছি ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে। আর আজ (গতকাল) পেঁয়াজ কিনতে এসে দাম শুনে তো আমরা চমকে গিয়েছি। দুদিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ টাকা দাম চাচ্ছে। এভাবে যদি পেঁয়াজের দাম বাড়ে তাহলে আমরা গরিব মানুষ কীভাবে কিনব আর খাব। আমাদের তো আয় বাড়ছে না, দাম বাড়ায় আমাদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম যদি আগের মতোই কম থাকত তাহলে আমাদের সুবিধা হতো।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন ও শাকিল খান বলেন, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ ছিল। যার কারণে বাজারে ভারতের পেঁয়াজ না থাকলেও দাম কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে মুড়িকাটা পেয়াঁজের মৌসুম শেষ হয়ে সরবরাহ কমায় মোকামেই পেঁয়াজের দাম বেশি। যে পেঁয়াজ ১ হাজার ৫০ টাকা মণ ছিল, সেটি হঠাৎ করে দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। যার কারণে আমাদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মাহফুজার রহমান বাবু বলেন, সম্প্রতি দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে আসায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। সে ড়্গেত্রে আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
স্থলবন্দরটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ কিছুদিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সাড়ে তিন মাস পর বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। তবে পরিমাণ ছিল আগের তুলনায় অনেক কম। এর ওপর আবার গত ১৫ দিন ধরে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো ধরনের পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম কম থাকার কারণে আমদানিতে পড়তা না হওয়ায় আমদানিকারকরা বন্ধ রেখেছেন। তবে আগামী কিছুদিন পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়তে পারে। সে ড়্গেত্রে তারা আবারও পেঁয়াজ আমদানি করবেন বলে জানিয়েছেন।