ময়মনসিংহের ভালুকায় এক প্রভাবশালী সেচ নালা বন্ধ করে দেওয়ায় এবার এক হাজারের বেশি বিঘা বোরো জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মনো মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী ইটভাটা করার জন্য কমদামে জমি কিনতে না পেরে সম্প্রতি ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি ফেলে ৪০ বছরের পুরনো সেচ নালা ভরাট করে ফেলেন।
এর প্রতিকার চেয়ে কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পারুলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও আরব আলীর বাড়ির পাশ ঘেঁষে দুই কিলোমিটার লম্বা ড্রেন নির্মাণ করে প্রায় ৪০ বছর ধরে স্থানীয় মধুনী পাথার, উড়িমইষাল, হুরুইল, চাপাইল, ফুরগি বিলসহ আশপাশের সহস্রাধিক বিঘা জমিতে কৃষকরা ফসলি জমিতে পানি দিয়ে আসছিলোন।
সম্প্রতি পাশের পাগলা থানার পাইথল গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ইটভাটা ব্যবসায়ী প্রভাবশালী মনো মিয়া কমমূল্যে জমি ক্রয় করার অসৎ উদ্দেশ্যে ভেকু দিয়ে মাটি ফেলে ওই ড্রেনটি বন্ধ করে দেন।
এতে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি বিলের সহস্রাধিক বিঘা জমিতে পানি দিতে না পারায় অনাবাদি থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য হুমায়ূন কবির খান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকার কৃষকদের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ইউপি সদস্য হুমায়ূন কবির খান বলেন, প্রভাবশালী মনো মিয়া পাশের উড়াহাটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করে লাকড়ি দিয়ে ইট পুড়িয়ে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষণ করছেন। এখন আমাদের গ্রামে কিছু জমি ক্রয় করেছেন আরেকটি ইটভাটা নির্মাণের জন্য। আর সে জন্য তিনি স্থানীয় কৃষকদের আরও জমি কমমূল্যে কিনে নেওয়ার জন্য ৪০ বছরের পুরনো ড্রেনটি জোর করে বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে সহস্রাধিক বিঘা জমি অনাবাদি থাকবে।
ওই বিলে জমির মালিক জোছনা খাতুন বলেন, পানির ব্যবস্থা না থাকায় আমার প্রায় তিন বিঘা বোরো জমিতে এবার এখন পর্যন্ত হালচাষ করতে পারিনি। ফসল না হলে আসছে বছর কী খেয়ে বাঁচব? বাচ্চাকাচ্চাদেরই বা কী খাওয়াব?
স্থানীয় কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, আমার প্রায় দুই বিঘা জমি সেচের ব্যবস্থা না থাকায় ধান রোপণ করতে পারিনি। এখানে ইটভাটা স্থাপন করা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
১১ নম্বর রাজ্যে ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাদশা বলেন, মনো মিয়াকে আমি নালাটি (ড্রেন) পরিষ্কার করে দিতে কয়েকবার বলার পরও তিনি তা করেননি। এখন ইউএনওকে লিখিত দেওয়া হয়েছে। দেখা যাক তিনি কী সিদ্ধান্ত দেন।
তবে হালচাষ করতে না পারলে একটি বড় জনগোষ্ঠীর বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। আর এখানে ইটভাটা করলে আশপাশের বিস্তীর্ণ জমিতে চাষাবাদ করা যাবে না, তাও তাকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত মনো মিয়া বলেন, হুমায়ূনের জমি আমি ইটভাটার জন্য ক্রয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দাম বেশি চাওয়ায় ক্রয় করিনি, এ জন্য অভিযোগ করেছে। আমি সেচকাজের জন্য একটি শ্যালোমেশিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকে নোটিস করা হয়েছে। আলোচনা করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।