অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুশাররফ হোসেন (১৯৩০-২০১৩) ছিলেন আমার সরাসরি শিক্ষক। ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। তার না থাকা আমাদের অনেককে বিকল করে। জীবন অবশ্য নিজের মতো চলে। তবু শূন্যতা টের পাই। ভাবি ইনারী হোসেনের জন্মভূমি ফিনল্যান্ড। স্যারের সঙ্গে তিনিও জড়িয়েছিলেন আমাদের মুক্তি সংগ্রামে। ভুলতে পারি না অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে তার মূল্যবান অলংকার সব বেঁচে দিয়ে যা পান তা অসংকোচে ওই যুদ্ধে তার ঢেলে দেওয়া। তিনিও অধ্যাপনা করেছেন। ইংরেজিতে। প্রথমে রাজশাহীতে, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে গত শতকে নব্বই দশকের মাঝামাঝি তার ধৈর্যের সীমা ছাড়ায়। পেশিশক্তির দখলদারি তিনি মানতে পারছিলেন না। তা চরমে ওঠে যখন একদিন তার ক্লাস চলাকালেই এক দঙ্গল মাস্তান ছাত্র তার অনুমতির তোয়াক্কা না করে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে গলাবাজি শুরু করে। তিনি ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান; এবং আর কিছু চিন্তা না করে, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না তুলে কর্তৃপক্ষের কাছে তার পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে তিনি আর খাপ খাওয়াতে পারেন না। নিজের দেশে ফিরে যান। স্যারকেও বলেন সঙ্গী হতে। তার যেমন খ্যাতি নানা জায়গা থেকেই উপযুক্ত মর্যাদায় তাকে পাওয়ার আগ্রহ অনেক নামি সংগঠন থেকে আসে। স্যার কিন্তু রাজি হন না। এই দেশের সঙ্গে তিনি বলেন ভালো-মন্দ যাই হোক, তার ভাগ্য জড়িত। দায়বদ্ধতাও এখানে। তার মেধা ও কর্মদক্ষতা সবটুকুর প্রয়োগ এই দেশের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে। তা চেতনার শেষ বিন্দু পর্যন্ত। তার সারা জীবনের কাজ এর সঙ্গী। পরে যতদিন তিনি বেঁচেছিলেন, সব গবেষণা করেছেন তিনি ঢাকায় থেকে। ভাবি কখনো কখনো এসেছেন। তিনিও মাঝে মাঝে ফিনল্যান্ড গেছেন। দুই ছেলে বড়জন ডাক্তার, ছোটজন ইঞ্জিনিয়ার দুজনই মেধাবী। আমেরিকায় সুপ্রতিষ্ঠিত। একই রকম তারা কখনো-কখনো এখানে এসেছে। স্যার ও ভাবিও সময় বের করে মাঝে মাঝে তাদের কাছে গেছেন। গত বছর ভাবিও চলে গেলেন। বন্ধনের সূত্রগুলো এখন সব ছিন্ন। এই কথাগুলো বলাই কিন্তু এখানে আমার উদ্দেশ্য নয়। বলার জায়গাটায় পৌঁছুবার এ ভণিতা। অবশ্য রীতিসিদ্ধ না হলেও আমি লজ্জিত নই। এদের ভুলে থাকাটাই বরং আমার কাছে অপরাধ। তা একার নয়, আমাদের সবার। বলবার জায়গাটা এবার সামনে আনার চেষ্টা করি। পারা-না পারার দায় সবটাই আমার।
২. যারা রোজ খবরের কাগজ পড়েন, অথবা খবর শোনেন তাদের কাছে এটা নতুন নয় যে গত বছর (২০১৯) অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনজন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মাইকেল ক্রেমার এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটির দুই প্রফেসর এসথার ডুফলো ও অভিজিৎ ব্যানার্জি। শেষ জুটি দম্পতি। এসথার-অভিজিৎ একসঙ্গে মিলে দুটো বই লিখেছেন : ১. পুওর ইকোনমিকস (Poor Economics) ও ২. গুড ইকোনমিকস ফর হার্ড টাইমস (Good Economics for Hard Times)। প্রথমটির প্রকাশকাল ২০১১ এবং দ্বিতীয়টির ২০১৯। বই লেখার যে বর্ণনা তারা দেন তাতে অনুমান, এ দুটি বাদে আর কোনো বই তারা এখনো যৌথভাবে লেখেননি। তবে গবেষণাপত্র তাদের বেরিয়েছে বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে। অবশ্য আরও অনেকের সঙ্গে মিলে এবং এসথার ও অভিজিৎ একই দলে খুব কমই। মাইকেল ক্রেমারের একক কোনো লেখার পরিচয় এখনো পাইনি। এসথার ও অভিজিতের কোনো কোনো টিমে তার নামও চোখে পড়েছে। এ সবই কিন্তু পুওর ইকোনমিকস বইটির সূত্রে জানা। আরও জানি, ২০০৩-এ এসথার-অভিজিৎ এমআইটিতে ‘আবদুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাব’ (J-PAL) প্রতিষ্ঠা করেন তখন থেকে তা পরিচালনা করে আসছেন। এর নেটওয়ার্ক সারা বিশ্বে ছড়ানো। দারিদ্র্য নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ। অধ্যাপক ক্রেমারের সঙ্গে একত্রে কাজ করা এই সূত্রে। এসথার-অভিজিতের দ্বিতীয় বইটির লক্ষ্যবিন্দু সরাসরি দারিদ্র্য নয়। এটিতে তারা বিশ্ব-অর্থনীতির কর্মকা- সামনে রেখে চলতি ধ্যানধারণাগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে বাস্তবের সঙ্গে তাদের অসংগতির প্রকটতা তুলে ধরে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ভাবনার পথ খুঁজেছেন। বিশ্ব-বাণিজ্য থেকে করনীতি, বায়ুদূষণ থেকে অভিবাসন সবই তারা যৌক্তিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঈর্ষণীয় সাধু গদ্যে বিচার-বিশ্লেষণ করে সঠিক পথের সন্ধান করেছেন। তবে মনে হয়, এই জুটির নোবেল জয়ের পেছনে বিশ্ব-দারিদ্র্য নিরসনে তাদের নিরলস মেধাবী উদ্যমই বিচারকম-লীর সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা যে তাদের কাজে পারিসংখ্যানিক ‘র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়ালস’ (Randomised Control Trials/R-CT) পদ্ধতি ব্যবহার করে বাস্তবের বিচার-বিশ্লেষণে নতুন পথে অগ্রসর হয়েছেন, এটাও নিশ্চয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে।
শুরু করেছিলাম আমার স্যার, প্রফেসর মুশাররফ হোসেনের কথা দিয়ে। তারপরে আচমকা এই নোবেল পুরস্কারের কথা যেন ধান ভানতে শিবের গীত। আমার মানসিক সুস্থতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। তা অবশ্য নতুন নয়। তবে এখানে যা করার তা ভেবেচিন্তেই করেছি। এবং তা মুশাররফ স্যারের আজীবন সাধনার কথা মাথায় রেখেই। বাংলার বিশেষ করে পল্লীবাংলার দারিদ্র্য শুরু থেকেই তার গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থেকেছে। আমাদের অর্থনীতির পাঠ্যক্রমে কোনো পর্যায়েই তা তেমন গুরুত্ব পায়নি। অবশ্যই দারিদ্র্যের আঞ্চলিক বিস্তার নিয়ে উন্নয়ন অর্থনীতিতে সেই সূত্রে স্থবিরতা ও অনুন্নয়ের ভাবনায় যথেষ্ট কাঠখড় পুড়েছে। দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ নিয়ে সর্বাত্মক কাজ অমর্ত্য সেন করেছেন। কিন্তু গরিব মানুষের বেঁচে থাকা-মরে যাওয়া নিয়ে তাদের বাস্তবতায় অনুপুঙ্খ দৃষ্টি ফেলে কেউ কাজ করলে বিষয়ের মূলস্রোতে তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সামান্যই। গত বছরে অর্থনীতিতে নোবেল প্রাইজের ভাবনায় তার স্বীকৃতি তাই এই রকম সব কাজের দিকে আমাদের বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করছে। তাতেই মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহ নিয়ে মুশাররফ স্যারের সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডের মূলধারার দিকে একবার ফিরে তাকাতে চাইছি। নোবেল যারা পান, তাদের কাজের পাশে তার কীর্তি এতটুকু ম্লান দেখায় না। যদিও অনেক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে সততার সঙ্গে পূর্বপরীক্ষিত পদ্ধতি-প্রকরণ ব্যবহার করে তিনি অগ্রসর হয়েছেন। নমুনা বিচারে থেকেছেন শতভাগ সৎ এবং ক্ষেত্র নির্বাচনে পক্ষপাত দেখাননি এতটুকু। প্রশ্নমালা রচনায় ও তথ্য সংগ্রহে খুঁটিনাটি কিছু বাদ গেল কি-না, অথবা কোথাও পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি-না তা তিনি নিজে সামনে থেকে যাচাই করে নিতেন। এসথার-অভিজিতের কন্ট্রোল ট্রায়ালের মাল-মসলা তার তৈরি প্রশ্নমালার ভেতরে থেকে যেত। পরে তথ্যবিচারের সময় তিনি তাদের আলাদা আলাদা গুরুত্ব যাচাই করে নিতে পারতেন। প্রত্যক্ষণে অথবা কার্যকারণের আপেক্ষিক বিচারে কোথাও কোনো ফাঁক থেকে যেত মনে হয় না।
তবে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় স্যার বিশেষজ্ঞ ছিলেন রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ক্রিয়াকর্ম বিচার-বিশ্লেষণে। গত শতকে পঞ্চাশের দশকে অর্থনীতির শাস্ত্রীয় পর্যায়েই শুধু নয়, ব্যবহারিক নীতি প্রণয়নে ও প্রয়োগে ইংরেজ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের প্রভাব সর্বত্রগামী। মন্দার সঙ্গে লড়াই করায় যেমন, সদ্য-স্বাধীন অনুন্নত দেশগুলোর কর্মকা-ে প্রগতিশীল বেষ্টনী গড়ে তোলাতেও তেমন। এবং তার ভাবনায় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে, অথবা তাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে রাষ্ট্রের সুচিন্তিত ও সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রচর্চার ও বাস্তবতার এমন প্রেক্ষাপটে স্যার যে বিলেত থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে ডক্টরেট করে ফিরবেন, এতে অবাক হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। ফিরে এসেই তিনি ‘পাকিস্তান ট্যাক্সেশন ইনকোয়ারি কমিশন’-এ সদস্য পদে যোগ দেওয়ার ডাক পান। তিনি তা গ্রহণ করে দু’বছর করাচিতে থাকেন। এর ভেতরে ১৯৫৮-তে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে আইয়ুব খান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জবরদখল করে বসেন। স্যার প্রথম সুযোগেই ওখানে কাজে ইস্তফা দেন। তারপর ঢাকায় প্রত্যাবর্তন। কিন্তু সম্ভাবনা তাকে টানে রাজশাহীতে। ১৯৫৯-এ এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে অধ্যক্ষ হয়ে তার আসা।
বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলে তার ন্যায় ও দায়িত্ববোধ তাকে আবার ঢাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। করাচি থাকাকালেই তিনি বুঝে ফেলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রব্যবস্থা একটা খোলস মাত্র। ভেতরে পশ্চাৎমুখী কায়েমি স্বার্থচক্রের দখলদারি বজায় রাখার নানা পাঁয়তারা। সেনাকর্তারা গোটা ব্যবস্থায় খবরদারি করার দায়িত্বে। খবরদারি পূর্ণ কর্তৃত্ব নিয়ে পৌঁছায়। আপামর জনসাধারণ দাবার ঘুঁটি। কোনো আপ্তবাক্যে এর সমাধান সূত্র নেই। তাকাতে হবে সোজাসুজি তৃণমূলে অগণিত মøান-মূক-রূঢ় মুখের দিকে। তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রক্রিয়া ও প্রকৃতির দিকে। মানুষের মুখ অসংখ্য বৈপরীত্যের ভেতরেও স্পষ্ট হয়ে উঠলে তখনই অনেকখানি নিশ্চয়তা নিয়ে ভাবা যায় কী করি, কীভাবে করি। রাজশাহী এলে কথাগুলো স্যারের মনে ঘুরে ঘুরে আসে। ঢাকার তুলনায় রাজশাহী তখন নেহাত আধাশহর। রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ির দাপট। মোটরগাড়ি প্রায় এক দ্রষ্টব্য যান। খুব কম বাড়িতে বিজলি বাতির চল। শহরের সীমা পেরোবার আগেই বাতাসে গ্রামের গন্ধ।
ষাটের দশকের গোড়াতে স্যারের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠল ‘স্যোশিও ইকোনমিক সার্ভে বোর্ড’ (Socio Economic Survey Board)। ঢাকা-রাজশাহী প্রধান সড়ক ধরে মাইল বারো পুবে পুঠিয়া। এখন উপজেলা কেন্দ্র। তখন আর পাঁচটা গ্রামের মতো এক গ্রাম। অবশ্য বর্ণাঢ্য এক অতীত ছিল। আকবরের সময় মোগল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যে বারো ভূঁইয়া মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন পুঠিয়ার রাজা রামচন্দ্র রায়। এখানকার মন্দির-মসজিদ, পুরাকীতি-ভাস্কর্য অশেষ গৌরবের। তবে গ্রামবাসীদের জীবনযাপন কি হালচাল আর পাঁচটা গ্রামের যেমন, তেমনই। স্যার গ্রামীণ সমাজে মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বপ্ন-সংগ্রাম-সার্থকতা-ব্যর্থতা সবটা আর্থ-সামাজিক বিচারের আওতায় এনে তার ধারাবাহিকতার স্বরূপ খোঁজায় উদ্যোগী হলেন। এটা একা-একা করার কাজ নয়। প্রয়োজন প্রতিদিনের মৌলিক জীবন-যাপনের তথ্য সংগ্রহের। অন্বিষ্ট কর্মসংযোগ বা দ্বান্দ্বিক আচরণের যৌক্তিক স্বরূপ খোঁজা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক সহায়-সম্বলের হিসাব নেওয়া। কৃষিচক্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টানা বছর ধরে এই তথ্য সংগ্রহের কাজ। তারপর তথ্যের ঝাড়াই-বাছাই, সাজানো-গোছানো ও স্বরূপের সন্ধান। সবটাই নিরাসক্ত প্রশ্নাবলি সামনে নিয়ে। এবং তা থেকে গ্রামীণ বাস্তবতায় বহু কর্মে বিজড়িত মানব সমুদয়ের সম্পর্ক-সম্বন্ধের জটাজালে কার্যকারণের পথের খোঁজ করা। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হয়, যেন পদ্ধতিগত বিন্যাসে ও তথ্য বিচারে কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা অসংগত ভুলভ্রান্তি ঢুকে না পড়ে।
স্যার ওই পুঠিয়া জনপদের সবটা নিয়ে তার সমীক্ষার কাজ পুরো এক বছর ধরে চালালেন। ১৯৬৩ সালে তার বিচার-বিশ্লেষণ, কার্যকারণ সংযোগ ইত্যাদি গ্রামীণ জনসমুদয়ের জীবনযাপনের নৈর্ব্যক্তিক চিত্র নিয়ে বই হয়ে বেরুল : The Pattern of a Peasant Economy: Puthia, A Case Study. তার ‘স্যোশিও ইকোনমিক সার্ভে বোর্ড’-এর প্রকাশনা। শুধু অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত-কাজকর্ম নয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ব্যবস্থা, সংস্কৃতি সবের ব্যবহারিক স্বরূপ এতে ফুটে ওঠে। আমার বিবেচনায়, ওই সময়ের প্রেক্ষিতে এ এক অসামান্য কাজ। কিন্তু তখনকার যা দস্তুর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা বিভাগের ঘেরাটোপেই তার কয়েকশ কপির বেশিরভাগ থেকে গেল, অথবা হারিয়ে গেল। বাইরে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মমাফিক কিছু পাঠানো হলো এবং যথারীতি আরও অনেক জরুরি কাজের নথির তলায় চাপা পড়ল। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারেও ওই বই এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কারও কোনো কৌতূহল আছে কিনা জানি না।
(আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় কিস্তিতে সমাপ্য)
লেখক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং শিক্ষাবিদ ও লেখক