ওয়ানডে সিরিজ ৩-০তে জেতার পর টেস্টেও সর্বোচ্চ সাফল্যের প্রত্যাশাটাই ছিল বাংলাদেশ দলের কাছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম পয়েন্টও হাতছানি দিচ্ছিল। চট্টগ্রাম টেস্টে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথেই ছিল মুমিনুল হকের দল। চার দিন শেষে বাংলাদেশকেই জয়ী মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিন কাইল মায়ার্সের অতিমানবীয় ইনিংসে পাশার দান উল্টে যায়। ম্যাচ হেরে সিরিজে ০-১-এ পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। নিশ্চিত জয় হাত ফসকে যাওয়ার হতাশায় যোগ হয়েছে ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্টে সাকিব আল হাসানকে না পাওয়া।
এদিকে সাকিবের জায়গায় দলে যোগ হয়েছেন সৌম্য সরকার। গতকাল রাতেই সৌম্যকে দলে নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে বিসিবি। সৌম্যকে নেওয়ার কারণ শুধু যে সাকিবের না থাকা তা-ই নয় সাদমান ইসলামেরও কুঁচকির ইনজুরি আছে। বিশেষ প্রয়োজন হলে সৌম্যকে ওপেন করানোর চিন্তাও মাথায় আছে টিম ম্যানেজমেন্টের। আজ থেকেই দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন সৌম্য। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনই সৌম্যর করোনা টেস্ট করিয়ে তিন দিনের কোয়ারেন্টাইন করানো হয়। তাই আজ থেকে বায়ো বাবলে ঢুকতে কোনো বাধা নেই এ ব্যাটিং অলরাউন্ডারের। অবশ্য দলে ফিরেই যে একাদশে সুযোগ পেয়ে যাবেন সরাসরি এমনটাও বলা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে মুমিনুল হক বলেছিলেন, সাকিব একের ভেতর দুই। একসঙ্গে বাড়তি ব্যাটসম্যান ও বোলারকে পাওয়ার সুবিধা আছে সাকিব দলে থাকলে। কিন্তু ঢাকা টেস্টে সেই সুযোগ নেই। এই উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হার রুখতে এই টেস্টে জয় ব্যতীত কোনো পথ নেই বাংলাদেশের সামনে। এমন অবস্থায় সাকিব না থাকা বড় ক্ষতি। কারণ এখন একজন ব্যাটসম্যানকেও খেলাতে হবে আবার একজন বোলারকেও আনতে হবে। তাই দল সাজানো নিয়েই এখন মাথা ঘামাতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
চট্টগ্রাম টেস্টে একাদশের বাইরে ছিলেন ইয়াসির আলি রাব্বি, মোহাম্মদ মিঠুন, সাইফ হাসান, আবু জায়েদ রাহি, এবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। হঠাৎ করে সৌম্যকে সুযোগ দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ওই একসঙ্গে একের ভেতর দুই পাওয়া। সৌম্যকে দিয়ে বোলিং এবং ব্যাটিং দুটোই হচ্ছে। দলে আর কোনো বদল না এনে শুধু সাকিবের জায়গায় সৌম্যকে রাখলেই হবে। তার ওপর সৌম্য থাকায় একজন পেসার কম নিয়ে খেলার ঝক্কিও থাকবে না। মোস্তাফিজের সঙ্গে সৌম্য নতুন বল শেয়ার করতে পারবেন। এর আগেও টেস্টে নতুন বল হাতে ছুটতে হয়েছিল সৌম্যকে।
তবে যদি সৌম্য একাদশে না থাকেন মিঠুনের নাম আসতে পারে। প্রথম টেস্টে সাকিব খেলেছেন ব্যাটিং অর্ডারের ৬ নম্বরে। ওই জায়গাটায় গত তিন টেস্টে খেলেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। মূলত সাকিব দলে ফেরাতেই মিঠুনকে জায়গা ছাড়তে হয়েছে। এখন সাকিব না থাকায় অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা মিঠুন একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। অভিজ্ঞতার জায়গাতেই পিছিয়ে আছেন ইয়াসির আলি। নয়তো টপঅর্ডারে খেলা এই তরুণের টেস্ট অভিষেক হতে পারে মিরপুর টেস্টেই। উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন ইয়াসির। ব্যাটিং অর্ডার বদল করতে হলে এই দুজনের মধ্যেই একজন একাদশে জায়গা করে নেবেন। ওপেনার সাইফ হাসানের সুযোগ নেই বললেই চলে। কারণ প্রথম টেস্টে সাদমানের ফিফটি আছে।
বোলিং বিভাগে পরিবর্তন আনা সবচেয়ে কঠিন হবে বাংলাদেশ দলের জন্য। কারণ উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তিন স্পিনারই ভালো বল করেছেন। একমাত্র মোস্তাফিজুর রহমানই ছিলেন খরুচে। তাছাড়া মিরপুরের পিচে এক পেসার নিয়ে খেলার উদাহরণও কম। ২০০৮ সালে মিরপুরের প্রথম টেস্ট থেকে ২০১১ পর্যন্ত একাদশে তিন পেসার রাখা হতো। ওই সময়ে খেলা ৮ টেস্টের ৫টিতেই ছিলেন তিন পেসার। এর পর থেকে খেলা হওয়া বাকি ১২ টেস্টে দুই পেসার খেলানোর নজিরই বেশি। এই ১২ টেস্টের মধ্যে মাত্র দুবার কোনো পেসারই রাখা হয়নি একাদশে। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং একই বছর উইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ টেস্টেই ছিল না কোনো পেসার। ওই পথে হাঁটলে চট্টগ্রামের মতো বোলিং আক্রমণই হয়তো থাকবে। কিন্তু মোস্তাফিজের ওপর চাপ কমাতে হলে টেস্টের নিয়মিত পেসার আবু জায়েদ রাহির দলে ফেরার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে স্পিনার কমবে একজন।