ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজে চোরাচালানের ৭ কেজি সোনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই থেকে আসা চোরাচালানের ৭ কেজি সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা বিএস-৩৪২ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর বোডিং ব্রিজে অবতরণ করে। বিমানটির যাত্রীদের উচ্ছিষ্ট খাবারের বক্স ক্যাটারিং সার্ভিসের গাড়িতে তোলার পর ওই গাড়ি তল্লাশি করে সোনার বারগুলো পাওয়া যায়। এ সময় সোনার ওই চালান পাচারে জড়িত সন্দেহে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের ৮ কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজন ক্যাটারিং সহকারী এবং একজন ক্যাটারিং হেলপার।

আটকরা হলেনক্যাটারিং সহকারী মো. আলী রেজা, সাদ্দাম হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আবু সালেহ, হানিফ দেওয়ান, জাহেদুর রহমান ও ক্যাটারিং হেলপার আশরাফুল আলম। হাই-লিফট কাভার্ডভ্যানের ফুড স্টোরেজের জায়গায় বিশেষভাবে সোনার বারগুলো লুকানো ছিল। আটকরা সবাই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, দুবাই থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালালে অবতরণ করে। ওই বিমান থেকে যাত্রীদের উচ্ছিষ্ট খাবারের বক্স ক্যাটারিং সার্ভিসের গাড়িতে তোলার পর তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই বক্সে ৭ কেজি ওজনের ৬০ পিস সোনার বার পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইফতেখার আলম ভুঁইয়া জানান, ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের ৮ কর্মীকে আটকের পাশাপাশি চোরাচালানে ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি মাসকাট থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা সারোয়ার উদ্দিন নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউজ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ১২ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউজ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চোরাচালান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস৩১৬-এর যাত্রী নামার সিঁড়ির নিচে ওই চালানটির ৪০টি সোনার বার পাওয়া যায়। একই বছরের ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টমস কর্মকর্তারা। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এরও আগে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর শাহজালালে তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউজ। বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন মিয়া নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। ওই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ কেজি সোনার বারসহ গ্রেপ্তার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে এপিবিএন সদস্যরা মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তার স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়। একই বছরের ২০ এপ্রিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দারা। ওই দিন বিকেলে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটটির টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তারও আগে ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউজ। বিমানটির (ফ্লাইট নম্বর বিএস৩২২) ১১এ ও ১১বি সিটের ভেতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।